শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:২২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
শেরপুরে মাস্কের ব্যবহার নিশ্চিত করতে ইউএনও’র অভিযানে মোবাইল কোর্টে দন্ডিত-১০ । শিলাইদহ রবী ঠাকুরের কুঠিবাড়ির উন্নয়নমূলক কার্যক্রম পরিদর্শন করলেন ভারতীয় হাই কমিশনার । কুষ্টিয়া জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের প্রতিনিধি সম্মেলন অনুষ্ঠিত । মেহেরপুর জেলা শাখা বনপা’র কমিটি অনুমোদন । ঝিনাইদহ লাইসেন্স নবায়ন ছাড়াই ছলছে ক্লিনিক ও ল্যাব : তদন্ত করতে আদালতের আদেশ । নিয়মানুসারে ২০২১ সালের মার্চে শুরু ইউপি নির্বাচন : বাধা কোভিড-১৯ । কুমড়োর বড়ি তৈরিতে ব্যস্ত গ্রামের গৃহবধুরা । কলারোয়াতে মহান বিজয় দিবস উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমুলক সভা । শেরপুরে মোবাইল কোর্টে দণ্ডিত-১২ : মাস্ক পরতে উদ্বুদ্ধ করতে মাইকিং । কলারোয়াতে শতজন ভূমিহীন পাবেন খাস জমি ও ঘর ।
ঘোষনা :
সত্য প্রকাশই আমাদের লক্ষ্য দৈনিক বাংলার রূপকথা ডটকমে আপনাকে স্বাগতম ।

বঙ্গবন্ধু ও বাকশাল-মোঃ আসাদুজ্জামান ।

মোঃআসাদুজ্জামান / ৬১২ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ০৫ ডিসেম্বর ২০২০, ০৫:২২ অপরাহ্ন

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগষ্ট। জাতির জীবনে কালো একটা দিন। বাঙ্গালী জাতির কিছু বিপদগামী সৈনিক সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী ও তার পরিবারের সদস্যদের নির্মমভাবে হত্যা করে জাতির ভাগ্যাকাশে কালো মেঘে ঢেকে ফেলে। বাঙ্গালী জাতি ও বাংলাদেশ নামের নবীন একটি দেশকে নেতৃত্ব শূন্য করার জঘন্যতম অপচেষ্টা চালানো হয়েছিলো। নতুন সদ্য স্বাধীন দেশ বিনির্মাণে সবচেয়ে বড় নেতাকে হত্যা করার পর এই দেশ হয়ে যায় প্রকৃত নেতৃত্ব শূন্য। মাঝি বিহীন নৌকার মত দেশ দুলতে থাকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসা,চরমপন্থা, নৈরাজ্য আর স্বৈরশাসনের বেড়াজালে। যে মহান নেতার নেতৃত্বে ,আহ্বানে,অপরিসীম সাহসের জন্য আমরা শৃক্সখলমুক্ত হলাম, জাতি হিসেবে স্বাধীন স্বার্বভৌম নতুন মানচিত্র আর পতাকা পেলাম সেই নেতাকে নিহত করার পর উনার পরিবারকে নিয়ে রটানো হলো কুৎসা আর বিদ্বেষ। যে মহান নেতা আমাদের স্বাধীন দেশের পতাকা তুলে ধরলেন ,যার দূরদর্শিতায় আমরা স্বাবলম্বী হতে যাচ্ছিলাম সেই নেতাকে নিয়ে বানানো হলো চক্রান্তের বিশাল জাল। বঙ্গবন্ধুকে ঘৃণিত করার জন্য উনার আদর্শকে করা হলো কলুষিত । তার নতুন ধরনের রাষ্ট্রচিন্তাকে করা হলো বিতর্কিত। বঙ্গবন্ধু হত্যার দীর্ঘদিন পরেও তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের বৈপ্লবিক চিন্তাভাবনাকে বিতর্কিত করা হয়েছে,সমালোচিত করা হয়েছে। মূলত বাকশালকে ঘিরে যেসব প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হয়েছে তার আদৌ কোন ভিত্তি ছিল কিনা সে বিষয়ে আওয়ামীলীগের অনেক নেতাই চুপ ছিলেন। বাকশাল-যেটা বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন পূরণের, বাঙ্গালীর অর্থনৈতিক মুক্তির মূল মন্ত্র ছিল, সেই প্রসঙ্গে কথা উঠলেই অনেক নেতা চুপ হয়ে যেতেন। তবে নবীন প্রজন্মের একজন হয়ে আমি বাকশাল তথা বঙ্গবন্ধুর নতুন শাসনতান্ত্রিক পদ্ধতি নিয়ে আমি দু’কথা লিখব।

বাকশালঃ বাংলাদেশ কৃষক শ্রমিক আওয়ামীলীগ, বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ, বাংলাদেশ কমিউনিস্ট পার্টি, জাতীয় আওয়ামী পার্টি (মোজাফফর) এবং জাতীয় লীগ নিয়ে গঠিত একটি রাজনৈতিক ফ্রট ছিল। ১৯৭৫ সালে ২৪ শে জানুয়ারি বাংলাদেশ সংবিধানের ৪র্থ সংশোধনীর মাধ্যমে বহুদলীয় সংসদীয় সরকার পদ্ধতি বাতিল করে রাষ্ট্রপতি শাসিত সরকার প্রবর্তন করা হয়। বাকশালকে বলা হয় দ্বিতীয় বিপ্লব। প্রথম বিপ্লব ছিল বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জন। প্রথম বিপ্লবে আমরা পরাধীন থেকে মুক্ত হয়েছিলাম। আর দ্বিতীয় বিপ্লব হলো অর্থনৈতিক মুক্তির বিপ্লব। বাকশাল মূলত অর্থনৈতিক মুক্তির শ্লোগান নিয়ে গঠিত হয়।

বাকশালের পটভূমিঃ সদ্য স্বাধীন বাংলাদেশ বাকশাল কায়েম এবং জাতীয় দলের প্রয়োজনীয়তা এমন ছিল যে সদ্যোজাত শিশুর জন্য যেমন তার মায়ের ভাল ভালবাসা প্রয়োজন তেমনি। বঙ্গবন্ধু তার ভাষণে বলেছিলেন “ বাকশাল গণতন্ত্র হলো শোষিতের গণতন্ত্র”। সংসদ সদস্য এবং রাষ্ট্রপতিকে সরাসরি ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত করার সুযোগ করেন। সমাজতন্ত্রের সাথে গণতন্ত্রের মিলবন্ধন ঘটান।

১৯৭৪ সালে সদ্য সদ্য স্বাধীন বাংলায় দূর্ভিক্ষ হয়। এছাড়া প্রকৃতির বিরুপ আচরণে খরা, বন্যার মত অভিশাপ এসেছিল। ১৯৭৪ সালের দূভিক্ষ পরবর্তি পরিস্থিতি সামাল দিতে নতুন সরকার বিশাল হিমসিম খাচ্ছিল। প্রথমত যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশ যার সবকিছু ধ্বংস প্রায় তার উপর প্রকৃতির নির্মম অভিশাপ। দারিদ্র,অশিক্ষা,অর্থনৈতিক দাসত্ব এ জাতির ছিল। সেই সময়ই শুরু হলো সরকার বিরোধী গোপন নাশকতামূলক কার্যক্রম। বাংলায় যখন দূর্ভিক্ষ,খাদ্যাভাব তখন কর্ণেল তাহের গড়ে তুলেছিলেন তার গোপন স্বশস্ত্র বিপ্লবী গণবাহিনী। জাসদ প্রতিটি সেনানিবাসে গড়ে তুললেন নিজস্ব বিপ্লবী সৈনিক সংস্থা। জাসদের মূলমন্ত্র ছিল মার্কসবাদ-লেলিনবাদ ও মাও সে তুং এর চিন্তাধারাকে আদর্শ হিসেবে গ্রহণ করা এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের সরকারকে বিপর্যয়ে ফেলা।

অন্য দিকে সিরাজ শিকদারের (ভাষ্কর শামীম শিকদারের ভাই) স্বাধীন জনগণতান্ত্রিক পূর্ববাংলা নামে সর্বহারা পার্টি গঠন করেন। এই ক্যাডাররা এতটাই ভয়ংকর ছিল যে ১৯৭২-১৯৭৩ সালে ৪৯২৫ টি গুপ্ত হামলা চালিয়েছিলো। এছাড়া পুলিশরাও লুট করে জনগণকে নিরাপত্তাহীন করে ফেলে।

দেশের এই বিশৃংখলতার সুযোগে পাকিস্থানপন্থী রাজনৈতিক দল-জামায়াতে ইসলাম, নেজামে ইসলাম,মুসলিম লীগ মিলে জুলফিকার আলী ভুট্টোর গোপন নেতৃত্বে আবার এই বাংলাকে অশান্ত করে পরাধীন করার পায়তারা চালাচ্ছিল।

বাংলাদেশের এই দুঃসময়ে চারিদিকে থেকে ষড়যন্ত্রের জাল বুনছিল বিশ্বের ক্ষমতাশীল রাষ্ট্র চীন,আমেরিকা। এই অগোছানো সময়ের সুযোগে দেশ এক অরাজকতায় ডুবে যায়। উগ্র বামপন্থী, চরমপন্থী,পাকিস্থানপন্থীদের নাশকতায় ছিন্ন-বিচ্ছিন হয় দরিদ্র সদ্য স্বাধীন বাংলা।

১৯৭৩ সালের নির্বাচনে বাংলাদেশ আওয়ামীলীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। ফলে কিছু অসৎ নেতা কর্মীরাও এই সুযোগে সরকারের দলীয় ক্ষমতা ব্যবহার করে দেশে অরাজক পরিবেশ তৈরী করে। তারা দলের ও সরকারের চূড়ান্ত অপব্যবহার করে। এসব ঘটনা বঙ্গবন্ধুর কাছে পৌছে যায়।

বামপন্থী,চরমপন্থী,উগ্রপন্থী,পাকিস্থানপন্থীরা দেশে শুরু করে রাজনৈতিক কর্মী হত্যা,খাদ্য ও পাটের গুদামে আগুন, খাদ্য বহনকারী ট্রেন ধ্বংস, থানা লুট,সার-কারখানায় নাশকতা,গমভর্তি জাহাজ ডুবানো, রাজনৈতিক নেতাদের দায়িত্বজ্ঞানহীন আচরণ, অস্ত্রের জোরে সরকার উৎখাতের অপচেষ্টা, চারজন সংসদ সদস্যকে হত্যা, নিজ দলের কমীদের লুটপাট, চোরাচালান ও ক্ষমতার অপব্যবহার।

একদিকে বাংলার দূর্ভিক্ষের সাধারণ মানুষের মৃত্যু অন্যদিকে নিজ কর্মীদের দূর্নীতি,হত্যা, মজুদদারী,কালোবাজারী, বিভিন্ন মতাদর্শের উত্থাপনে দেশ ধ্বংসের দিকে যাচ্ছিল। অথচ যে স্বপ্ন নিয়ে সমৃদ্ধ বাংলার গড়ার জন্য দেশ স্বাধীন করেছিলেন জন্য তা যেন দিন দিন ফিকে হয়ে যাচ্ছিল। তিন নিজ দলের নেতা কর্মীদের আর ভরসা করতে পারছিলেন না। ফলে ১৯৭৪ সালের ২৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করেন জরুরী অবস্থা জারি করতে। এই ১৯৭৪ সালেই মজুদদারী ,কালোবাজারী,চোরাচালান,ভেজাল রোধ করতেই ‘বিশেষ ক্ষমতা আইন-১৯৭৪’ জারি করেন।

বাকশালের ফলাফলঃ বাকশাল গঠনের ক্ষেত্রে বঙ্গবন্ধু কিছু রুপরেখা দাড় করান। জাতীয় ঐক্য গঠন,শাসন বিকেন্দ্রীকরণ,সামাজিক বিপ্লব,আত্মসমালোচনা,স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি,সমবায় পদ্ধতি চালু, দূর্নীতি, মজুতদার, কালোবাজার, চোরাচালান রোধ করা ছিল বাকশালের উদ্দেশ্য। তিনি বলেছিলেন-“আমাদের আদর্শ হল বাংলার দুঃখী মানুষের পেট ভরে খাবার দিয়ে শোষনমুক্ত দেশ গঠন যেখানে অত্যাচার, অবিচার,জুলুম থাকবেনা।” তখন সদ্য স্বাধীন বাংলায় ঐরকম পরিস্থিতিতে বাকশালের বিকল্প কিছুই ছিলনা। হতে পারত না। সোনার বাংলা গড়ার জন্য যে সূত্র উনি পেয়েছিলেন তা বাস্তবায়ন করতে দেওয়া হয়নি। বাকশাল কায়েমের ফলে দেশ বিদেশে ষড়যন্ত্রের মাত্রা বেড়ে যায়। নিজ দলের বিশ্বস্ত নেতা কর্মীরাও বেইমানী করে।কারণ সেসব নেতাদের পছন্দ ছিল দূর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার।

১৯৭৫ সালের ১৫ই আগস্ট শত্রুদের নীল নকশা সফল হয়। জাতির পিতা ও উনার পরিবারকে নির্মমভাবে হত্যা করে। থেমে যায় বাকশালের কার্যক্রম। থেমে যায় সবুজ শস্য ভরা বাংলাদেশের স্বপ্ন।

১৯৭৫-১৯৯৬ সাল, এই ২০ বছর বাংলার মাটিতে বঙ্গবন্ধুর ভাষণ,আদর্শ,কর্মকান্ড বন্ধ করে দেওয়া হয়। এই ২০ বছরে স্বৈরশাসকেরা বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের প্রতি ষড়যন্ত্র করেছে,মিথ্যা বানোয়াট কথা চারিদিকে প্রচার করেছে। সামরিক শাসকদের পালিত বুদ্ধিজীবিদল এসব নেতিবাচক কথা প্রচারের দায়িত্ব পালন করেছেন,২০ বছর ধরে একই প্রজন্মকে বাকশাল নিয়ে মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর গল্প শুনিয়েছেন। বঙ্গবন্ধুর স্বপ্ন,আদর্শকে মুছে ফেলার সব চেষ্টা করেছিলো।

যেহেতু বাকশাল শাসনব্যবস্থ্যা আলোর মুখ দেখেনি তাই এই মুজিব-ইজম যদি টিকে থাকত তবে বাংলা আজ বিশ্বের মাঝে নেতৃত্ব দিত।

ছবিঃ মোঃ আসাদুজ্জামান

লেকচারার,আইন ডিসিপ্লিন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়,খুলনা ।

 

 

 

[পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের]


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
78910111213
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
এক ক্লিকে বিভাগের খবর