বৃহস্পতিবার, ০৫ অগাস্ট ২০২১, ০৬:১৭ পূর্বাহ্ন

করোনায় থমকে গেছে খোকসার মৃৎশিল্প ।

পুলক সরকার / ১৮৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ১৮ জুলাই, ২০২১, ৮:৩৭ পূর্বাহ্ন

করোনায় থমকে গেছে খোকসার মৃৎশিল্প  

 

 

 

পুলক সরকার:

একদিকে মহামারী করোনা, অন্যদিকে লকডাউন। এমন পরিস্থিতিতে মাটির তৈজসপত্র বিক্রি শূন্যের কোঠায় নেমে গেছে। কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়েছে এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত পরিবারগুলোর। কুষ্টিয়ার খোকসা উপজেলায় হাতে গোনা রয়েছে কয়েকটি কুমার পরিবার। করোনার দ্বিতীয় ঢেউ নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে বিলুপ্তির পথে থাকা মৃৎশিল্পের ওপর। এমন অবস্থা চলতে থাকলে এই শিল্পটির মৃত্যু হতে পারে এমন আশঙ্কা সংশ্লিষ্টদের।

সরেজমিনে খোকসা একতারপুরের কুমার পল্লীতে গিয়ে দেখা গেছে সুনসান নিরবতা। এলাকায় প্রায় ১৫ টি পরিবার এই শিল্পের সাথে জড়িত। এছাড়াও এ শিল্পের সাথে সহ-কারিগর হিসেবে জড়িত রয়েছে আরো প্রায় ১২ টি পরিবার। মাটির তৈরি বিভিন্ন জিনিসপত্র ছাড়াও বিভিন্ন মেলাকে কেন্দ্র করে হরেক রকমের মাটির পণ্য তৈরী করে ঘরে মজুদ করে রেখেছেন। করোনার কারণে গ্রাম্য মেলা অনিশ্চিত হয়ে করেছে। অন্যদিকে অর্ডার করা প্রতিষ্ঠানগুলোতে তৈরীকৃত পণ্য সরবরাহ করতে না পাড়ায় দুশ্চিন্তার ছাপ পড়েছে তাদের কপালে।

এক্তারপুর বাড়ির বারান্দায় মাটির হাঁড়ি পাতিল নিয়ে ক্রেতাশূণ্য দোকানে বসে থাকতে দেখা গেলো ষাটোর্ধ্ব যমুনা রানী পাল (৬৯) পালকে। দোকানে বিক্রির জন্য সাজিয়ে রাখা মাটির থালা, ঘট, ভাপা পিঠার খুলিসহ অনেক কিছুর দেখা মিলল সেখানে। এগুলোর অনেক কিছু যান্ত্রিক সময়ের চাপে হারিয়ে গেছে। অথচ এক সময় বাংলার হারিয়ে যাওয়া মাটির এসব জিনিষপত্র ছাড়া গৃহস্থালীর কাজ করা প্রায় অসম্ভব ছিল।

এক্তারপুর গ্রামের রঞ্জিত পাল (৬৭) বলেন, আকার ভেদে মাটির তৈরি ব্যাংক ১০-৫০ টাকা, খোলা খোলা পাতিল ৩০-৭০ টাকা, গরুর খাবারের জন্য চারি ৪০-৬০ টাকা, পানি রাখার কলস ৮০ টাকা, পাতিলের ঢাকনা ১০ টাকা, শিশুদের খেলনা প্রতি পিস ১০-৩০ টাকা, মাটির থালা ৫০-৭০ টাকা, ফুলের টব ২৫-৬০ টাকা, পানের বাটা ৪০ টাকা ও মাটির প্রদীপের দাম ৫ টাকা, ঘট ৫ টাকা রাখা হয়েছে।

তিনি আরো বলেন, এক দিকে মাটির দুষ্প্রাপ্যতা অন্যদিকে শ্রমিকের মজুরি বৃদ্ধির কারণে মাটির তৈজসপত্র বিক্রি করে খুব একটা লাভের মুখ দেখছেন না তারা। তাদের অভিযোগ, সরকারের পৃষ্ঠপোষকতা না পেলে এ শিল্প টিকিয়ে রাখা অসম্ভব।

বংশের ১১তম পুরুষের হাল ধরে রেখেছেন খোকসা একতারপুরের মৃৎশিল্পী নবকুমার পাল (৫৫)। তিনি বলেন, ছেলেদের মৃৎশিল্প টিকিয়ে রাখার জন্য কাজ করতে বললেই তারা বলে বাবা, এ দিয়ে আমাদের জীবন চলবে না। প্রয়োজনে মাঠে কাজ করব, ভ্যান-রিকশা চালাব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
31      
   1234
19202122232425
2627282930  
       
22232425262728
293031    
       
       
       
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.