বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কলারোয়ার জয়নগর ইউপি চেয়ারম্যান বাবু দেশে ফেরায় ইউনিয়নবাসীর শুভেচ্ছা । খোকসা কাত্যায়ণি পূজা পরিদশর্ন করেছেন পৌর মেয়র ও জেলা পূজা উদযাপন কমিটির নেতৃবৃন্দ ।। কুমারখালী পৌর নির্বাচনে এবারও নৌকার প্রার্থী হতে চান বর্তমান মেয়র অরুণ । কলারোয়ায় একই পরিবারের ৪ জন হত্যা মামলায় জড়িত রায়হানুলের বিরূদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল । কলারোয়াতে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সপ্তাহ উদযাপন উপলক্ষে প্রস্তুতিমুলক সভা । কুষ্টিয়া চাল আত্মসাতের মামলায় ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান কারাগারে । কলারোয়াতে খেজুরের রস সংগ্রহর কাজে ব্যস্ত গাছিরা-banglarrupkotha.com কুমারখালী মাস্ক ব্যবহার বাধ্যতামূলক করতে মোবাইল কোর্টে অর্থদন্ড । শেরপুরে “নো মাস্ক, নো সার্ভিস” জনসচেতনতামূলক প্রচারাভিযান ও মাস্ক বিতরণ । খোকসার ওসমানপুর হাই স্কুলে সাবমারসেবিল পাম্প দান করলেন আজগর আলী ।
ঘোষনা :
সত্য প্রকাশই আমাদের লক্ষ্য দৈনিক বাংলার রূপকথা ডটকমে আপনাকে স্বাগতম ।

কোরবানির পশু চামড়া মূল্যের প্রাসঙ্গিক ভাবনা !

এস এম নাজিম রেজা / ১৫১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বুধবার, ২৫ নভেম্বর ২০২০, ০৫:৩৬ পূর্বাহ্ন

আমার জীবনে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ ছাত্রাবাসে পাশাপাশি কামরাতে অবস্থান ছিলো একই এলাকার সিনিয়র ভাই মোঃ মেজবাহ উদ্দিন পাশা।খুবই শান্ত,মার্জিত,সাদা মনের মানুষ, দেখতেও ছিলেন স্বাস্হ্য বান,এক কথায় সব মিলিয়ে সুন্দর। জনতা ব্যাংকে অফিসার হিসেবে চাকরি শেষে অবসরে কুমারখালি শহরে স্থায়ীভাবে বসবাস করছেন।আমরা ছাত্রাবাসের সকলে তাঁকে উস্তাদ বলে সম্মোধন করতাম।তাঁকেদেখছি সপ্তাহ দুয়েক আগে ফেস বুকে তারকষ্ট নিয়ে লেখা বিষয়টি ছিলো কোরবানিতেপশু চামড়ার গত দুই বছরের অব্যাবস্হারজন্য নিচ থেকে হাজারীবাগের ট্যানারিরমালিক পর্য্যন্ত চামড়া শিল্পকে টেনে নিচেনামিয়েছে তা বলার অপেক্ষা রাখেনা।আজ অবধি গরু,ছাগলের চামড়ার মূল্য নির্ধারন হয়নি।দুই দিন আগে আবার বিষয়টি আবারও তিনি তুলে ধরেছেন।ভাবছি আমার উস্তাদজী বেশ একটু রেগে আছেন তাই আমার তার সাথে  সহমত পোষন করে আমার ভাবনা তুলে ধরছি।আমি এ বিষয়ে কয়েক জন কসাই সহ গরু বিক্রেতার  সাথে আলাপ করেছি, তারা জানিয়েছেন অত্যান্ত দুঃখ ভারাক্রান্ত হৃদয়ে,গরুর চামড়ার মূল্য ১৫০/-থেকে ২০০/-টাকা  ছাগলের চামড়ার মূল্য শুন্যের কোটায়,দীর্ঘদিন  ছাগলের চামড়া সংগে সংগে মাটিতে পুতে ফেলে কসাইখানা কসাইয়েরা।অবাক লাগে ভাবলে। ৫কেজি গোখাদ্য যার দাম ২০০/-টাকা অন্যদিকে পৃথিবী খ্যাত ব্লাক বেঙ্গল গোট কালো খাসির চামড়ার চাহিদা  ব্যাপক কিন্তু কেন আজ পিছিয়ে।

এখানেও কি করোনার থাবা….?কেন আজ চামড়াজাত শিল্পের এরূপ দুরাবস্থা….?চামড়া জাত দ্রব্যের মধ্যে জুতা,স্যান্ডেল,মানিব্যাগ,ছোট বড় ব্যাগ,সুটকেস, বেল্ট,জ্যাকেট সহ অনেক সৌখিন দ্রবাদি পণ্যাদি তৈরি হয় যা নিজ দেশ ছাড়াও পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে রপ্তানি করে প্রচুর  বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন হয়। এদেশ থেকে চীন,মার্কিন যুক্ত রাষ্ট্র, দক্ষিণ কোরিয়া,জাপান, ইতালি, জার্মানী,স্পেন সহ প্রায় ৭০টি দেশে প্রক্রিয়াজাত চামড়া রপ্তানিতে আসে প্রচুর বৈদেশিক মুদ্রা।গত দুই বছরে কাঁচা চামড়া নিয়ে  যে অব্যবস্হাতা মোটেই সুখকর নয়।আগে চামড়া  কিনতো নৃ-গোষ্ঠীর শ্রেণির মানুষ কিন্তু পরবর্তী সময়ে অনেকেই সুদ নিয়ে চামড়া কিনে সর্বস্ব হারিয়েছেন। হাজারীবাগের  খোলা রাস্তার লক্ষ লক্ষ পিস চামড়া ক্রেতার অভাবে ফেলে  গেছেন যা বৃষ্টিতে,কাঁদায় বর্জ্যে পরিণত হয়েছে। ট্যানারী মালিক দের বক্তব্য তারা অর্থের জোগান না থাকায় কাঁচা মাল কিনতে পারেন নাই। বর্ডার এলাকায় তাদের চামড়া  হাজারীবাগ  পাঠনোর প্রয়োজন হয় না ফলে তারা এটি নিয়ে ভাবেনা।একজোড়া স্যান্ডেলের দাম কমপক্ষে ২০০০/-, জুতা একজোড়ার দাম সব থেকে কম ৪০০০/-,ব্যাগের মূল্য ৩০০০/-থেকে ৫০০০/-জ্যাকেট ও সুটকেসের মূল্য ৬০০০/-থেকে  ৮০০০/-যেখানে সামান্য বেল্টের মূল্য ৪০০/- থেকে ৫০০/-(এ গুলো  সবই চামড়া জাত পণ্য)।এখানেই উঠে তবে কেন নাই কাঁচা মালের মূল্য।  আমাদের  দেশে আছে প্রায় ৩০টি চামড়া জাত  পণ্যের কারখানা এছাড়া আরও ৪০টি বিদেশি  জয়েন্ট ভেন্চারে চলছে বিভিন্ন চামড়া জাত  পণ্য উৎপাদন কারখানা প্রতি বছর বেড়ে চলে কর্মকান্ডের পরিধি।

হাজারীবাগের ট্যানারির সংখ্যা প্রায় ১৫০ টি ছিল বর্তমানে অর্ধেক স্হানান্তর হয়েছে  নতুন সরকারি ব্যাবস্হাপনায় সাভারের কাছাকাছি  হেমায়েতপুর সংলগ্ন হরিণধারা গ্রামে জলেশ্বরী  নদীর  তীরে গড়ে উঠেছে ট্যানারী পল্লী।সেখানে ২০০ একর জমি অধিগ্রহণ করে ১৫৫টি প্লট তৈরী হয়েছে  ট্যানারী কারখানা নির্মানের জন্য। হাই কোর্ট বার বার হাজারীবাগ থেকে ট্যানারী স্থানান্তর নির্দেশ দেওয়া স্বত্বেও মালিক গন এখনো কার্য্যকরী ভূমিকা  নেন নাই।তাদের বক্তব্য যে,অদ্যবধি সেন্ট্রাল বর্জ্য শোধনাগার  নির্মান শেষ  না হওয়ায় জন্য ট্যানারী সরানো সম্ভব হচ্ছে না। হাজারীবাগ ট্যানারীতে ১২০০০ এর বেশী শ্রমিক কাজ করেন এর সাথে চামড়া জাত  শিল্পে জীবন জীবিকা প্রায় ৭০থেকে ৮০ লক্ষ মানুষের। প্রতি  বছর চামড়া প্রক্রিয়াজাত এ্যাসিড সহ অন্যান্য ক্ষতিকর রাসায়ানিক বিক্রিয়ায় অনেক মানুষ চোখ, শ্বাসনালী,  ক্যান্সার আক্রান্ত হয়।বর্জ্য অপসারণের  কোন ব্যাবস্হা না থাকায় হাজারীবাগ সহ পার্শবর্তী এলাকায় জনসাধারণের বসবাসের  অযোগ্য হয়ে উঠেছে।বিদেশী বায়ার গনের আপত্তি দেওয়া স্বত্বেও সকল ট্যানারী সরানো এখনও সম্ভব হয় নাই তবে মানুষের কল্যানের স্বার্থে স্থানান্তর যথাসম্ভব দ্রুত হবে সবারই সেটাই কাম্য।

চামড়া জাত  পণ্য রপ্তানি করে আসে প্রায় ৩৫০০ কোটি টাকা তবে কাঁচা মালের সরবরাহ  স্থিতিশীলতা আসলে সরকারি সহযোগিতা পেলে রপ্তানি আয় ১৫০০০কোটি আয় সম্ভব বলে মনে করেন ট্যানারী মালিক গন।

সব শেষে বলি, হাজারীবাগ ট্যানারী মুক্ত হোক সেখান কার জনসাধারণ বিষমুক্ত বায়ু সেবন করুক, হরিণধারায় কাজ সমাপ্ত হোক সেন্ট্রাল  বর্জ্য শোধনাগার সেই সাথে শ্রমিকের জীবনের  নিরাপত্তা নিশ্চিত ব্যাবস্হা সহ কাঁচামালের সাথে প্রক্রিয়া জাত দ্রব্যের মূল্যের সমন্বয়। পশুর চামড়া  বোঝা না হয়ে হয়ে উঠুক সম্পদে এটাই হোক আমার একান্ত চাওয়া। সকলকে আবারও ধন্যবাদ দিয়ে শেষ করছি।

ছবিঃ লেখক, গবেষক শিল্পী  

 এস এম নাজিম রেজা     

 

 

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
      1
23242526272829
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
এক ক্লিকে বিভাগের খবর