বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ০৩:০৬ অপরাহ্ন

ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী ইউপি চেয়ারম্যান ।

সম্পাদনায় / ১৬০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২৭ মে, ২০২১, ৭:৩৮ পূর্বাহ্ন

ধর্ষণ মামলার প্রধান আসামী ইউপি চেয়ারম্যান ।

 

 

বিকাশ সরকারঃ

এক কিশোরীকে ধর্ষণ ও অবৈধ গর্ভপাতে মৃত্যু ঘটানোর অভিযোগে এক ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং আ.লীগ নেতাসহ ৫ জনকে আসামি করে আদালতে মামলা দায়ের হয়েছে। এঘটনায় ময়মনসিংহের ঈশ্বরগঞ্জ উপজেলা জুড়ে সৃষ্টি হয়েছে তোলপাড়।

বুধবার (২৬’মে) দুপুরে খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেছেন ময়মনসিংহ জেলা ও জজ আদালতের আইনজীবী মকবুল হোসেন।

তিনি আরো জানান, গত মঙ্গলবার (২৪’মে) জেলা নারী ও শিশু আদালতে নিহতের পিতা স্বপন বাদি হয়ে অভিযোগ দায়ের করলে বিজ্ঞ আদালত আমলে নিয়ে ঈশ্বরগঞ্জ থানা-পুলিশকে অভিযোগটি মামলা হিসেবে গণ্য (এফআরআই) করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার আসামিরা হচ্ছেন, উপজেলার ৯ নম্বর উঁচাখিলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলাম শফিক, তার বড় ভাই স্থানীয় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি মঞ্জুরুল হক মঞ্জু, নিহত মেয়ের মা আছমা, মাহাবুবুল আলম ও চেয়ারম্যানের বডিগার্ড দুলাল মিয়া।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, চরআলগী গ্রামের কাঠমিস্ত্রি স্বপন মিয়া তার পরিবার পরিজন নিয়ে উচাখিলা বাজারে বসবাস করে আসছিল। তার বাসায় উপজেলার ৯ নম্বর উঁচাখিলা ইউপি চেয়ারম্যান মো. শফিকুল ইসলামই শফিক যাতায়াত করতো। তাকে বাসায় না আসার জন্যে নিষেধ করায় চেয়ারম্যানের পরামর্শে স্বপনকে তালাক দিয়ে আসমা ও তিন কন্যা সন্তান নিয়ে বাজারের সীডস্টোর ভবনে বসবাস শুরু করে। তবে সীডস্টোরের বাসায় চেয়ারম্যান নিয়মিত যাতায়াত অব্যাহত রাখে।

এই সুযোগ কাজে লাগিয়ে স্বপনের স্ত্রী আসমার মৌন সম্মতিক্রমে দ্বিতীয় কন্যা স্বর্ণা (১৬) কে বিবাহ করার মিথ্যা প্রলোভনে দৈহিক সম্পর্ক গড়ে তুলে। এক পর্যায়ে কিশোরী স্বর্ণা অন্তঃসত্ত্বা হয়ে পড়ে। এতে আসামিরা বিপাকে পড়লে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ওই কিশোরীকে কবিরাজী ঔষধ সেবন করায়। এতে অন্তঃসত্ত্বা স্বর্ণার ব্যাপক রক্তক্ষরণ শুরু হলে গত ৯ মে কিশোরীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তার অবস্থার অবনতি হলে ডাক্তার তাকে ঢাকায় রেফার করে।

কিন্তু আসামিরা স্বর্ণাকে ঢাকায় না নিয়ে বাড়ী নিয়ে আসে। পরদিন তার অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ শুরু হলে ১১’মে ভিকটিমকে ঢাকায় ন্যাশনাল নিউরো সাইন্স হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ১২’মে আনুমানিক রাত ২ টার দিকে স্বর্ণা মারা যায়।

মামলার এজাহারের বরাত দিয়ে আইনজীবী মকবুল হোসেন জানান, ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শফিক ভিকটিমের মায়ের মৌন সম্মতিতে মিথ্যা বিবাহের প্রলোভনে টানা ধর্ষণে করলে এক পর্যায়ে গর্ভবতী হয়ে পড়ে ভিকটিম। এতে আসামিরা বিপাকে পড়ে গেলে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়ার জন্য ওই কিশোরীকে কবিরাজী ঔষধ সেবন করায়। এতে ভিকটিমের ব্যাপক রক্তক্ষরণ হলে গত ৯ মে কিশোরীকে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করে। অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকরা তাকে ঢাকায় রেফার্ড করে। কিন্তু আসামিরা ভিকটিমকে ঢাকায় না নিয়ে বাড়ীতে গোপন করে রাখলে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হতে থাকলে গত ১১ মে ভিকটিমকে ঢাকায় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে গত ১২ মে আনুমানিক রাত ২টার দিকে কিশোরীর মৃত্যু হয়।

মামলার বাদি মো. স্বপন বলেন, ইউপি চেয়ারম্যানসহ অন্য আসামিরা মৃত্যুর ঘটনাটি ধামাচাপা দেয়ার জন্য অতি গোপনে ভিকটিমের বাড়ি থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে উপজেলার ইসলামপুর জামিয়া গাফুরিয়া মাদ্রাসার কবরস্থানে তার মেয়ের লাশ দাফন করলে বিষয়টি এলাকায় চাঞ্চল্যকর হয়ে উঠে। পরে ঘটনার বিস্তারিত জানতে পেরে বাদি হয়ে জেলা নারী ও শিশু আদালতে এই মামলা দায়ের করেন। আসামীদের হুমকীতে আতংকিত রয়েছেন তিনি। ঘটনার সঠিক বিচার দাবি স্বপনের।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে অভিযুক্ত ইউপি চেয়ারম্যান শফিক জানান, মেয়েটি ব্রেইন স্ট্রোকে মারা গেছে। আমার বিরুদ্ধে আনিত অভিযোগ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। আমি রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
31      
   1234
19202122232425
2627282930  
       
22232425262728
293031    
       
       
       
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.