বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ০১:৪৯ অপরাহ্ন

পরিস্থিতি ও বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া উচিত  ।

মোঃ আসাদুজ্জামান সাগর / ১৬৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ২৫ মে, ২০২১, ৮:৪৬ পূর্বাহ্ন
ছবিটি লেখকের

পরিস্থিতি ও বাস্তবতাকে মেনে নিয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া উচিত ।

 

 

 

মোঃ আসাদুজ্জামান সাগরঃলেকচারার,আইন ডিসিপ্লিন,খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়।

সার্বিক পরিস্থিতি ও বাস্তবতা কে মেনে নিয়ে অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া উচিত বলে মনে করি। দীর্ঘ প্রায় ১৫ মাস শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ। প্রথম দিকে ইউরোপ, আমেরিকা, চীনের মৃত্যুর খবর শুনে আমরা উদ্বিগ্ন ছিলাম। তখন সরকারের সিদ্ধান্ত মেনে নিয়ে কঠোর লকডাউন, স্যানিটাইজার, মাস্ক,গ্লাভস ব্যবহারে সবাই সচেতন হয়েছিল। তারপর বিভিন্ন সময়ে করোনার সংক্রমণ ওঠানামা করেছে। কখনো বেড়েছে কখনো কমেছে। কিছু নতুন ভ্যারিয়েন্ট বের হয়েছিল। সরকারের ত্বরিত পদক্ষেপের জন্য সেই ভ্যারিয়েন্ট ছড়িয়ে পড়েনি৷ মানুষ প্রয়োজনে বাধ্য হয়ে গৃহবন্দী দশা থেকে কাজে বের হয়েছে। আস্তেধীরে দোকান, ব্যবসা,পরিবহন, অফিস, আদালত সবই খুলেছে। কখনো সংক্রমণ বৃদ্ধি পেলে আবার লকডাউন দিয়েছে কিন্ত সেটা কেউই তেমন আমলে নেয়নি৷ মৃত্যহার ৩৪ জন প্রতিদিন। মাঝে ২৬ শে,মার্চের পরে হঠাৎ সংক্রমণ বৃদ্ধি পেল৷ ১০০+ লোক মারা গেল প্রতিদিন। সরকার আবার লকডাউন দিতে বাধ্য হলেও জনগণ সেই লকডাউন গ্রাহ্য করেনি৷ বিভিন্ন শ্রেনী পেশার মানুষ আপত্তি তোলে। ঈদের আগে সব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হয় ব্যবসায়ীরা ব্যবসা করে তাদের ক্ষতি পুষিয়ে নিল। ঈদ শেষ আবার লকডাউন। গত ঈদে লক্ষ লক্ষ মানুষ শহর ছেড়ে গ্রামে এসেছে আবার ফিরেও গেছে। যদিও লকডাউন চলছিল ,গাড়ি বন্ধ ছিল। মোটামুটি সবকিছুই দৃশ্যত খুলে গেছে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান, অফিস, দূরবর্তী যানবাহন, লঞ্চ, ট্রেন, ফেরী। লোকজন গাদাগাদি করে চলাফেরা করছে৷ স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই৷ তারপরও লকডাউন দিয়েছে। কিন্ত কোন বিষয়ে লকডাউন? সবকিছুই ত স্বাভাবিক। তাহলে কিভাবে লকডাউন বাস্তবায়ন হচ্ছে?? নিউজে দেখলাম সমস্ত ছাত্রছাত্রীকে ভ্যাক্সিনেটেড করে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো খোলার চিন্তাভাবনা করছে সরকার । এত লক্ষ লক্ষ স্টুডেন্টকে ভ্যাক্সিনেশন প্রোগ্রামের আওতায় আনতে আরো অনেক দীর্ঘ সময় লেগে যাবে। অতদিন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখলে জাতির একটা নির্দিষ্ট প্রজন্মের শিক্ষার্থীদের মেধা বিকাশ ও জাতি বিনির্মাণের প্রবলভাবে বাধাপ্রাপ্ত হবে। এমনিতেও আমরা অনেক দেরি করে ফেলেছি। ছোট ছোট বাচ্চারা অনলাইন গেমস এমনভাবে ঝুঁকে পড়েছে সম্ভবত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দিলেও তাদের মূল ট্রাকে ফিরিয়ে আনা সবচেয়ে দুরূহ কাজ হবে। শিক্ষক শিক্ষার্থীরা তাদের লেখাপড়া, গবেষণা সংশ্লিষ্ট কাজ থেকে অনেক দূরে সরে গিয়ে এমন অবস্থায় এসেছে এখন মূল ট্রাকে ফিরে গিয়ে নতুন ভাবে সবকিছু শুরু করাটা কষ্টকর হবে। লক্ষ লক্ষ লোক ঈদে বাড়ি এলো গেলো তারা কিন্তু সবাই ভ্যাক্সিনেশন প্রোগ্রামের আওতায় ছিল না এর পরও করোনা ভাইরাস সংক্রমণ তেমন ছড়ায়নি। আমার মনে হয় আর কালবিলম্ব না করে অবিলম্বে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুলে দেওয়া হোক। শিক্ষার্থী এবং শিক্ষকেরা স্বাস্থ্যবিধি মেনে ক্লাসে ফিরে আসুক। তাদের স্বপ্ন বাস্তবায়িত হোক।

 

 

(বিঃদ্রঃ পাঠকের মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়,লেখাটি দায় সম্পূর্ণ লেখকের)


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
31      
   1234
19202122232425
2627282930  
       
22232425262728
293031    
       
       
       
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.