বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ০৩:১৫ অপরাহ্ন

বৃটিশ থেকে স্মলার ভ্রাতৃদ্বয় বাবার হাতের স্মৃতি দেখতে এলেন কুষ্টিয়ার গড়াই রেল ব্রীজে ।

সম্পাদক / ৫৩৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ৮ মে, ২০২১, ২:৪৭ অপরাহ্ন

বৃটিশ থেকে স্মলার ভ্রাতৃদ্বয় বাবার হাতের স্মৃতি দেখতে এলেন কুষ্টিয়ার গড়াই রেল ব্রীজে ।

 

বিশেষ প্রতিবেদকঃ

নস্টালজিয়ায় আক্রন্ত দু’জন মানুষ। আবেগে আপ্লুত, বাকরুদ্ধ। তাদের ত্রিশ বছরের স্বপ্ন সফল হলো। কি আনন্দের ! যা দেখা গেলো গিয়েছেলো কুমারখালীর গড়াই নদীর ওপর রেলওয়ে ব্রীজে পা রাখতেই। নাইজেল স্মলার ও অড্রিন স্মলার দুই সহোদর।

তাদের পিতা অল্ডউইন স্মলার ছিলেন তৎকালীন ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ে কোম্পানীর ব্রীজ ইঞ্জিনিয়ার। অল্ডউইন স্মলারের কর্মস্থল ছিলো কুষ্টিয়া। ১৯৩৭ সালে কুমারখালীতে গড়াই নদীর ওপর রেলওয়ে ব্রীজের কাজ শুরু হলে তিনি ছিলেন সার্বিক দায়িত্বে। তবে ব্রীজটি নির্মাণ কাজ ১৯৩৭ সালে শুরু হয়ে সম্পন্ন হয় ১৯৩৯ সালে। সে সময় সৃষ্টির উল্লাসে আন্দোলিত নাইজেল স্মলারের বাবা অল্ডউইন শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত ব্রীজের অনেক ছবি তোলেন।

বৃটিশ নাগরিক অল্ডউইন ভারতে আসেন ত্রিশের দশকে প্রথম দিকে ইস্ট বেঙ্গল রেলওয়ের প্রকৌশলীর চাকরি নিয়ে ভারতে আসেন। নাইজেলের নানা ব্রিটিশ নাগরিক হলেও চাকরি সুত্রে বসবাস করতেন ভারতের নাগপুরে। তাঁর কর্মস্থল নির্ধারন হয় কুষ্টিয়াতে। তাঁর মেয়ে তেরেসার সঙ্গে অল্ডউইনের বিয়ে হয়। ১৯৫১ সালে অল্ডউইন ইংল্যান্ডে ফিরে যান। ৭৪ বছর বয়সে ১৯৭৮ সালের ১৯ অক্টোবর তিনি মারা যান। মারা যাবার পূর্বে তিনি বড় ছেলে নাইজেল স্মলারকে অনেক ছবি দেখান ও গড়াই ব্রীজ তৈরির গল্প বলেন। বলেন বাংলাদেশ তথা কুষ্টিয়া-কুমারখালীর অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কথা। বাবার মৃত্যুর ২ বছর পর হঠাৎই যেন নাইজেল আক্রন্ত হন নষ্টালজিয়ায়। বাবার সৃষ্টি গড়াই ব্রীজ দেখতে হবে।

সেই থেকে স্বপ্ন দেখা শুরু। কিন্তু সময় ও সুযোগ হয়ে ওঠে না। ৩০ বছর ধরে স্বপ্ন দেখার পর নাইজেল স্মলার ও তার ছোট ভাই অড্রিন স্মলার এবং ভিয়েতনামী বন্ধু হুয়াং লি বাংলাদেশে আসেন। এদেশে তারা দি বেঙ্গল টুরিস্ট লিমিটেডের তত্বাবধানে ওঠেন। দুপুরে তারা টুর ম্যানেজার মহিউদ্দিন জিয়ার নেতৃত্বে আসেন কুমারখালী প্রেসক্লাবে। এখান থেকে কুমারখালী প্রেস ক্লাবের সভাপতি বাবলু জোয়ারদার তাদের সফর সঙ্গী হন ।

কুমারখালী প্রেসক্লাব থেকে মাইক্রো গড়াই ব্রীজের দিকে যতো এগুতে থাকে, ততোই আবেগ তাড়িত হতে থাকেন স্মলার ভ্রাতৃদ্বয়। অবশেষে স্বপ্নের গড়াই ব্রীজ। স্পন্দিত বুকের স্পর্শ নিয়ে স্বপ্ন নেমে আসে ধরা তলে। আবেগে আপ্লুত, বাকরুদ্ধ স্মলার দুই ভাই। বাবার সৃষ্টি তারা ছুঁয়ে ছুঁয়ে দেখেন। যেনো বাবাকেই ছুঁয়ে দেখছেন তারা গভীর মমতায়। এ এক অন্য অনুভুতি। ব্রীজ তৈরির সময়ের তোলা স্মৃতিময় ছবি দেখিয়ে তারা বলেন, এই হচ্ছে গড়াই ব্রীজ, আর এই আমাদের বাবা।

তারা বলেন, এই ব্রীজ তৈরির বাবা আমাদের অনেক গল্প শুনিয়েছেন। শুনিয়েছের এদেশের প্রকৃতি, লালন, টেগর ও এদেশের মানুষের কথা। নাইজেল স্মলার পেশায় একজন মানষিক রোগের চিকিৎসক ও তার ভাই অড্রিন স্মলার ব্যাংকার। নাইজেল বলেন, আমরা চার ভাই, মা আছেন। তাঁর বয়স ৭৪ বছর। আমরা এ ব্রীজের ছবি ও ভিডিও চিত্র দেশে গিয়ে আমাদের মা ও অন্য দু’ ভাইকে দেখাবো। আমাদের বন্ধুদের দেখাবো বাবার সৃষ্টি। তাঁরা আবার গড়াই ব্রীজের কাছে আসবেন। কুমারখালী থেকে তাঁরা বিদায় নেন পড়ন্ত বিকালে ট্রেনের ইঞ্জিনে চড়ে।

উদ্দেশ্যে ছিলো চলন্ত ট্রেন থেকে ব্রীজের ভিডিও চিত্র ধারন করা।


আপনার মতামত লিখুন :

One response to “বৃটিশ থেকে স্মলার ভ্রাতৃদ্বয় বাবার হাতের স্মৃতি দেখতে এলেন কুষ্টিয়ার গড়াই রেল ব্রীজে ।”

  1. akash khan says:

    বীৃজটি খুবই
    ভালো

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
31      
   1234
19202122232425
2627282930  
       
22232425262728
293031    
       
       
       
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.