বৃহস্পতিবার, ১৭ জুন ২০২১, ০৩:২৬ অপরাহ্ন

গেমস’র নেশায় আসক্ত হয়ে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ ।

প্রকাশক ও সম্পাদক / ১৬৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ৮ মে, ২০২১, ৬:২১ পূর্বাহ্ন

গেমস’র নেশায় আসক্ত হয়ে ধ্বংস হচ্ছে যুব সমাজ ।

 

 

পুলক সরকারঃ

কুষ্টিয়ার বিভিন্ন উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের গ্রামের মোড়ে মোড়ে, দোকানের সামনে, খেলার মাঠে বিভিন্ন স্থানে ঘুরে দেখা গেছে দিন দিন ইন্টারনেট ফাইটিং ফ্রি ফায়ার ও পাবজি গেমসে ঝুঁকছে বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কোমলমতি শিক্ষার্থীরা। করোনায় সকল শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় এ গেমসে জড়িয়ে পড়ছে তারা।

মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতা এবং হাতের নাগালের মধ্যে থাকা ইন্টারনেটের কারণেই গেমস’র জনপ্রিয়তা আকাশচুম্বী। বর্তমানে গেমে অত্যধিক আসক্ত হয়ে পড়ছে শিশু থেকে শুরু করে কিশোর এবং তরুণরাও।

এই গেমসে আসক্ত হয়ে তরুনদের মধ্যে থেকে হারিয়ে যাচ্ছে দেশপ্রেম। এদের দেশের প্রতি কোনো ভালোবাসা নেই,দেশকে এরা ভাবে না,পরিবারের দিকেও নেই কোনো টান।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডাব্লিউএইচও) এক গবেষণার পর জানিয়েছে ভিডিও গেমে আসক্তি এক ধরণের মানসিক রোগ।

এই সকল গেমস কেবল শারীরিক ক্ষতির কারণই নয় সেই সাথে মানসিক রোগের কারণও হতে পারে।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, উঠতি বয়সের শিক্ষার্থীরা ও পুরো যুব সমাজ দিন দিন ফ্রি ফায়ার এবং পাবজি নামক গেমের নেশায় জড়িয়ে পড়ছে। যে সময় তাদের ব্যস্ত থাকার কথা নিয়মিত পড়ালেখা নিয়ে ও খেলার মাঠে ক্রীড়া চর্চার মধ্যে, সেখানে তারা ডিজিটাল তথ্যপ্রযুক্তির এই খেলায় জড়িয়ে পড়ে নেশায় পরিণত করছেন।

বিকেল থেকে শুরু করে রাত ০৯টা থেকে ১০ টা পর্যন্ত রাস্তার পাশে বসে একাধারে খেলতে থাকে এ গেমস।  নেশায় পরে এদের কাছে শুধু বিকেল আর রাত নয় যখন সময় পায় তখন শুরু করে এ খেলা।দেখার কেউ নাই,এতে ধ্বংস হচ্ছে হাজার হাজার যুবক ছেলে।শুধু রাস্তায় নয় পথে ঘাটে,আনাচে কানাচে এ খেলায় আসক্ত হচ্ছে যুব সমাজ।

১৪ বছরের সীমান্ত। ক্লাস নাইনে পড়ে। ভালোই ছিল পড়ালেখায়।বড় বোনের একমাত্র আদরের ছেলে হওয়ায় একদিন তার মামা তাকে একটি স্মার্টফোন উপহার দিল। এরপর থেকে শুরু হলো তার গেম খেলা। ফলাফল, ক্লাস টেনে ওঠার সময় চার বিষয়ে ফেল!

সারা দিন গেম নিয়ে ব্যস্ত, মা–বাবার সঙ্গে কোনো দাওয়াত খেতেও যেতে চায় না, বন্ধুদের সঙ্গে মেশে না, গল্পের বই পড়ে না। ক্রিকেট বা অন্য কোনো খেলাও খেলে না। ডিজিটাল পর্দার গেম ছাড়া তার আর কোনো কিছুতে আগ্রহ নেই। মা–বাবা রাগ করে তার মুঠোফোনটি কেড়ে নেওয়ার চেষ্টা করতেই শান্ত–সুবোধ সীমান্ত অগ্নিমূর্তি হয়ে ধুমধাম করে বাসার দরজা আটকে দেয়, মা-বাবাকে কটুবাক্য বলে, চিৎকার করে আবার তার মুঠোফোনটি নিজের কবজায় নিয়ে আসে। সারা দিন ঘরের দরজা বন্ধ করে থাকে, ইদানীং একটুও পড়তে চায় না।

সীমান্ত’র মতো এমন বৈশিষ্ট্যের কিশোর-কিশোরীদের নিয়ে মা-বাবারা সংকটে থাকেন। বাংলাদেশেই শুধু নয়, সারা পৃথিবীতেই এই বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ মনোস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে দেখা দিয়েছে।

১০ থেকে ১৫ বছরের উঠতি বয়সের যুবকরা প্রতিনিয়ত অ্যান্ড্রয়েড ফোন দিয়ে এসব গেইমে আসক্ত হচ্ছেন। এসব বিদেশী গেম থেকে শিক্ষার্থী বা তরুণ প্রজন্মকে ফিরিয়ে আনতে না পারলে বড় ধরণের ক্ষতির সম্মুখীন হবে যুব সমাজ ।

দেখা গেছে ,অনেক শিক্ষার্থীরাই পড়ার টেবিল ছেড়ে মোবাইল এ গেমস খেলছে। এতে একদিকে তাদের ভবিষ্যৎ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে অপরাধ প্রবণতা বাড়ছে।

ফ্রি ফায়ার গেমসে অনুরাগী অনেকে জানান , ‘ প্রথমে তাদের কাছে ফ্রি ফায়ার গেমস ভাল লাগত না। কিছু দিন বন্ধুদের দেখাদেখি খেলতে গিয়ে এখন তারা আসক্ত হয়ে গেছেন। এখন গেমস না খেলে তাদের অস্বত্বিকর মনে হয়।

এই সমস্যা থেকে আমাদের সন্তান, ছোট ভাইদের বাঁচাতে হলে অভিভাবকদের পাশাপাশি সমাজের সচেতন মহল, শিক্ষক-শিক্ষিকা, জনপ্রতিনিধিদের কঠোরভাবে পদক্ষেপ নিতে হবে।

অনেকেই মন্তব্য করেছেন,এই সকল গেমস মাদকদ্রব্যের নেশার চেয়ে ভয়ঙ্কর।

লেখকের কিছু কথা (তরুনদের জন্য):গেমস একটি ভয়ানক জিনিস যেটার কুফল ছাড়া কোন সুফল নেই। তোমরা তরুণ প্রজন্ম,আগামীর দেশ তোমাদের হাতে, তাই তোমাদের ভিতর দেশপ্রেম জাগ্রত করে নতুন বাংলাদেশ গড়ার প্রত্যয় নিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের কল্যাণের জন্য কাজ করতে হবে।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
31      
   1234
19202122232425
2627282930  
       
22232425262728
293031    
       
       
       
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.