মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৮:০৪ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়া অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন জনপদ ‘কুমারখালী’

প্রকাশক ও সম্পাদক / ২১৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বুধবার, ২৮ এপ্রিল, ২০২১, ৯:০০ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়া অঞ্চলের অপেক্ষাকৃত প্রাচীন জনপদ ‘কুমারখালী’

 

 

পুলক সরকারঃ

‘কুমারখালী’ কুষ্টিয়া অঞ্চলের মধ্যে অপেক্ষাকৃত প্রাচীন জনপদ হিসেবে পরিচিত।কুমারখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা যে একসময় নদী গর্ভে ছিল তার প্রমাণ মেলে কোল ও বিলের আধিক্য থেকে। তাই পদ্ম গর্ভ থেকে এই অঞ্চলের উদ্ভব হয়েছে বলে ধারণা প্রচলিত ।

কথিত আছে, নবাব মুর্শিদকুলি খাঁ রাজস্ব আদায়ের জন্য কমরকুলি খাঁ-কে এই অঞ্চলের কালেক্টর নিযুক্ত করেন। তাঁর নামানুসারেই এই অঞ্চলের নাম হয় ‘কমরখালী’ যার অপভ্রষ্ট-রূপ বর্তমান নাম ‘কুমারখালী’। আবার কুমার নদীর খাল থেকে ‘কুমারখালী’ নামের উৎপত্তি এই ধারণাও পোষণ করেন কেউ কেউ ।

প্রশাসনিক কাঠামো পরিবর্তনের ফলে কুমারখালীর অবস্থান ও মর্যাদা বারবার পরিবর্তন হয়েছে। থানা থেকে মহকুমায় উন্নীত হয়ে কুমারখালীকে আবারও পরিণত হতে হয় থানায় ।

ইংরেজ শাসনের আগে কুমারখালী অঞ্চল ফরিদপুর ও যশোরের অন্তর্ভূক্ত ছিল। পরবর্তীসময়ে থানা কিংবা মহকুমা হিসেবে কুমারখালী রাজশাহী, পাবনা, নদীয়া এবং সবশেষে অন্তর্ভূক্ত হয় কুষ্টিয়া জেলার ।

১৮২৮ খ্রীঃ সালে পাবনা জেলা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হলে কুমারখালী পাবনার অন্তর্ভুক্ত হয়।

১৮৫৭ খ্রীঃ সালে কুমারখালী মহকুমার জন্ম হয় পাবনা জেলার অধীনে কুমারখালী, খোকসা, পাংশা ও বালিয়াকান্দী থানা নিয়ে।

তবে নদীয়া জেলার কুষ্টিয়া মহকুমার সামিল হয়ে কুমারখালী মহকুমার মর্যাদা হারিয়ে পুনরায় থানায় পরিণত হয় ১৮৭১ খ্রীঃ সালে । কুমারখালী থানার সদর দফতর ছিল পার্শ্ববর্তী অধুনালুপ্ত ভালুকা গ্রামে। কুমারখালী এক সময নাটোর-রাজ্যের অধীনে ছিল। পরে জোড়াসাঁকোর ঠাকুর-জমিদারির অন্তর্ভূক্ত হয়। রাণী ভবানী ও তাঁর উত্তরপুরুষদের নির্মিত মঠ-মন্দির এবং জনহিতকর কর্মের কিছু নিদর্শন এখনো আছে কুমারখালী অঞ্চলে ।

২৮৬.৭৭ ব: কি: মিঃআয়তন বিশিষ্ট উপজেলার ২০১ টি গ্রাম, ১১টি ইউনিয়নে ও ০১টি পৌরসভায় মোট জনসংখ্যাঃ৩,৪১,২৫৫ জন  (পুরুষ-১,৬৯,৮২৯ জন ও মহিলা-১,৭১,৪২৬ জন)।

এ অঞ্চলের মোট আবাদী জমি ৪৫,২০৩ একর ,প্রধান অর্থকরি ফসলের মধ্যে রয়েছে  ধান, পাট, আখ ও গম।

কুমারখালী অঞ্চলে দর্শনীয়/ঐতিহাসিকস্থানের মধ্যে রয়েছেঃরবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কুঠিবাড়ী,বাউল সম্রাট লালন শাহের মাজার,মীর মশাররফ হোসেনের বাস্তুভিটা,কাঙ্গাল হরিনাথ মজুমদারের বাস্তুভিটা,ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলনের নেতা বিপ্লবী বাঘা যতীন’র ভাস্কর্ষ ।

তবে কুমারখালী অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য নদী রয়েছেঃ ০২ টি (পদ্মা ও গড়াই নদী)।

উল্লেখযোগ্য শিল্প প্রতিষ্ঠান এর মধ্যে রয়েছেঃ শিলাইদহ ডেইরী ফার্ম, বুলবুল টেক্সটাইল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড, রানা টেক্সটাইল ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড, ইষ্টার্ন ফেব্রিক্স ইন্ডাষ্ট্রিজ লিমিটেড।

বর্তমানে কুমারখালী অঞ্চলে রয়েছে পুলিশ ফাঁড়ি/ক্যাম্প ০৮টি,পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র ০১টি ও থানার সংখ্যা ০১টি।

এখানে রয়েছে, রেল স্টেশনের সংখ্যাঃ০২টি (কুমারখালী ও চড়াইকোল রেল স্টেশন), মোট রেল পথের দৈর্ঘ্যঃ ১৯.৫কি:মি:,ফায়ার সার্ভিস ষ্ট্রেশন  ০১টি এবং  উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স:০১টি । এছাড়াও এখানে উল্লেখযোগ্য আরো বেশ কিছু সরকারী ও বে-সরকারী প্রতিষ্ঠান রয়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
31      
   1234
19202122232425
2627282930  
       
22232425262728
293031    
       
       
       
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.