সোমবার, ২৬ জুলাই ২০২১, ০৭:৫২ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ায় সম্পত্তির জন্য বোনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয় দুইভাই ।

পুলক সরকার / ১৫৭ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : মঙ্গলবার, ৯ মার্চ, ২০২১, ৩:৩০ অপরাহ্ন

কুষ্টিয়ায় সম্পত্তির জন্য বোনকে হত্যা করে লাশ নদীতে ফেলে দেয় দুইভাই ।

 

পুলক সরকারঃ

সম্পত্তির লোভে নিজ বোনকে ঢাকা থেকে নেত্রকোনা নিয়ে গিয়ে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে মরদেহ নদীতে ফেলে দেন দুই ভাই। পরে বোন নিখোঁজ এই মর্মে থানায় সাধারণ ডায়রি করেন তারা। এত কিছুর পরেও শেষ রক্ষা হয়নি তাদের। পুলিশের হাতে গ্রেফতারের পর প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে আপন ভাই শফিউল আজম ও চাচাতো শামীম হোসেন তাদের বোন শামীমা বেগমকে (৪০) হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

সোমবার (০৮’মার্চ) বেলা ১১টায় কুষ্টিয়া পুলিশ লাইনের কনফারেন্স রুমে কুষ্টিয়ার নবাগত পুলিশ সুপার খাইরুল আলম সংবাদ সম্মেলনে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানিয়েছেন।

লিখিত বক্তব্যে পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন, কুষ্টিয়ার মিরপুর উপজেলার রানাখড়িয়া গ্রামের মৃত আশরাফ উদ্দিনের ছেলে বর্তমানে ঢাকার দক্ষিণখান কাঁচা বাজার সংগ্রামী সরণী রোডের ৩১২ নম্বর বাড়ির বাসিন্দা শফিউল আজম (৫২) গত ৪ মার্চ কুষ্টিয়ার মিরপুর থানায় উপস্থিত হয়ে একটি সাধারণ ডায়রি করেন। জিডিতে শফিউল উল্লেখ করেন তার বোন শামীমা বেগম গ্রামের বাড়ি কুষ্টিয়ার মিরপুর রানাখড়িয়ায় বেড়াতে যাবার উদ্দেশ্যে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি ঢাকা থেকে রওনা হন। গত ২৭ ফেব্রুয়ারি রাত ৮টা পর্যন্ত বোনের সঙ্গে মোবাইল ফোনে তার যোগাযোগ হয়। এর পর থেকে বোনের মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায়।

তিনি আরও বলেন, অভিযোগের সূত্র ধরে পুলিশ গতকাল রবিবার কুষ্টিয়ার মিরপুর এলাকা থেকে প্রথমে শফিকুল আজমের চাচাতো ভাই একই এলাকার নায়েব আলী মৃধার ছেলে শামীম হোসেনকে আটক করে। পরবর্তীতে ওই দিনই শফিউলকে আটক করা হয়।

জিজ্ঞাসাবাদে শামীম পুলিশকে জানায়, তার চাচাতো ভাই শফিউল কিছু দিন আগে তার চাচাতো বোন শামীমাকে নেত্রকোনা নিয়ে যাওয়ার জন্য তার কাছে সাহায্য চান। শামীমার মা মারা যাওয়ার পর চাচাতো ভাই শফিউল আজম অন্য এক নারীকে মা সাজিয়ে তার মায়ের নামে ঢাকায় ৬ তলা বাড়ি ও মার্কেট নিজের নামে লিখে নেন।

পুলিশ সুপার বলেন, জালিয়াতি করে বাড়ি ও মার্কেট নিজের নামে লিখে নেয়ার বিষয়টি জানতে পেরে শফিউলের বাবা আশরাফ উদ্দিন বাদী হয়ে ছেলের নামে ঢাকায় সিভিল কোর্টে মামলা করেন। ওই মামলার অন্যতম সাক্ষী ছিলেন বোন শামীমা বেগম। প্রায় ৩০ বছর আগে নেত্রকোনা সদরে শামীমার বিয়ে হলেও অল্প দিনের মধ্যে ডিভোর্স হয়ে যায়। সেই থেকে শামীমা ঢাকাতে বাবার বাড়িতেই বসবাস করতেন। কিন্তু ভাই শফিউল বোন শামীমাকে বিভিন্ন সময় নির্যাতন করতেন। ভাইয়ের অত্যাচার নির্যাতন থেকে বাঁচার জন্য এক পর্যায়ে শামীমা তার স্বামীর কাছে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা পোষণ করেন। সম্পত্তি জালিয়াতির মামলায় যাতে বোন সাক্ষী দিতে না পারে এ জন্য দুই ভাই শফিউল ও শামীম বোন শামীমাকে হত্যার পরিকল্পনা করেন।

পুলিশ সুপার খাইরুল আলম বলেন, পরিকল্পনা অনুযায়ী গত ২৫ ফেব্রুয়ারি শামীম হোসেন তার চাচাতো বোন শামীমা বেগমকে ঢাকা থেকে নেত্রকোনা নিয়ে যাওয়ার জন্য রওনা হন এবং পরের দিন ২৬ ফেব্রুয়ারি সকালে নেত্রকোনা শহরের একটি হোটেলে ওঠেন। পরের দিন ২৭ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে শফিউল আজম হোটেলে দু’জন লোক পাঠায়। ভাড়াটিয়া দু’জনের সহায়তায় শামীম চাচাতো বোন শামীমা বেগমকে শ্বাসরোধে হত্যার পর মরদেহ গুম করার জন্য নেত্রকোনা সদর থেকে ১২ কিলোমিটার উত্তর পূর্ব দিকে কংস নদীতে ফেলে দেন। গত ৩ মার্চ দুপুর পৌনে একটার দিকে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশ নদীতে ভাসমান অবস্থায় একজন নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।

সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার খাইরুল আলমের দাবি, গ্রেফতারকৃত দুই ভাই বোন শামীমা বেগমকে হত্যার দায় স্বীকার করেছে। এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত অন্যদেরও গ্রেফতারের জন্য চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ । গ্রেফতারকৃত দুই আসামিকে নেত্রকোনা মডেল থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
   1234
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
31      
   1234
19202122232425
2627282930  
       
22232425262728
293031    
       
       
       
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.