মঙ্গলবার, ০৩ অগাস্ট ২০২১, ০৮:৩৬ অপরাহ্ন

বিএনপি নেতা থেকে এখন আওয়ামীলীগ নেতা!জাল সনদে দিলু কাজীর ১৭ বছর!!

মতিয়ার রহমান / ১৯৯ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ১ ফেব্রুয়ারী, ২০২১, ৭:৩৫ অপরাহ্ন

বিএনপি নেতা থেকে এখন আওয়ামী লীগ নেতা!জাল সনদে দিলু কাজীর ১৭ বছর !!

 

মতিয়ার রহমানঃ

শিক্ষাগত  সনদপত্র জালিয়াতি করে নিয়োগ লাভের মাত্র ১৭ বছর পার করেছেন তিনি। বিএনপি নেতা থেকে রাতারাতি বনে গেছেন আওয়ামী লীগ নেতা। রাজনৈতিক দাপট   খাটিয়ে মাদ্রাসায় না পড়েই হয়ে গেছেন আলিম পাশ।বাগিয়ে নিয়েছেন কাজীর পদ।চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটিয়েছেন কুষ্টিয়া শহরের ১৮ ও ১৯ নং ওয়ার্ডের নিকাহ রেজিস্ট্রার আব্দুর রব মিয়া ওরফে দিলু কাজী।

বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড বলেছে সনদ পত্র দুইটি ভূয়া।কুষ্টিয়া জেলা রেজিস্ট্রারের বক্তব্য অস্পষ্ট।বাংলাদেশ মুসলিম ম্যারেজ এক্ট ১৯৬১,১৯৭৫ এবং ২০০৯ এর ৮ ধারা মোতাবেক  কাজী পদে নিয়োগ লাভের জন্য অবশ্যই আলিম পাশ হতে হবে।

এবিষয়ে  অনুসন্ধানে নামলে জানা যায়, আব্দুর রব মিয়া ওরফে দিলু কাজীর বাড়ী কুষ্টিয়া শহরের মতি মিয়ার রেল গেট এলাকায়।তিনি ২০০৩ সালে আইন মন্ত্রনালয়ের স্মারক নং ২৮২(১০) তারিখ ২১/০৬/২০০৩ অনুযায়ী কুষ্টিয়ায় কাজী হিসেবে নিয়োগ লাভ করেন।যা আইন বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রনালয়ের স্মারক নং ৮২৩ বিচার ৭/২ এন ৭০/৮৬ অংশ।নিয়োগ লাভের  সময় তিনি বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড হতে প্রাপ্ত দাখিল ও আলিম পাশের দুটি সনদ পত্র দাখিল করেন।সনদ পত্র অনুযায়ী  তিনি নাটোর জেলার হোগল বাড়িয়া সিনিয়র মাদ্রাসা হতে ১৯৮৭ সালে দাখিল ও ১৯৮৯ সালে আলিম পাশ করেন। উভয় পরীক্ষাতেই তিনি দ্বিতীয় বিভাগ লাভ করেছেন।দাখিল পরীক্ষার রোল নং২৮৫৭।আলিম পরীক্ষার রেজিষ্ট্রেশন নং ৩৯৮৯/১৯৮৭৮৮ রোল নং ৭৩৭২।সার্টিফিকেটের ক্রমিক নম্বর  ১৯৮৫৮। নিয়োগ লাভের পর হতে জনমনে দিলু কাজীর শিক্ষা জীবন নিয়ে সন্দেহ দেখা দেয়।সে সময়ে কুষ্টিয়া সদর থানার মজমপুর ইউনিয়নের মাওঃ আবু বকর সিদ্দিক বাংলাদেশ মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ড এর নিকট দিলু কাজীর সনদ পত্র দুটি যাচাইয়ের জন্য আবেদন করে।সনদপত্র দুটি যাচাই শেষে তৎকালীন মাদ্রাসা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মুহাম্মদ ইউনুস আলী শেখ একটি প্রতিবেদন দাখিল করে যার স্মারক নং পরী/গো/সনদ ২৯০/২ তারিখ ২০/৬/২০০৪ইং। সনদ পত্র যাচাই প্রতিবেদনে মোহাম্মদ আব্দুর রব মিয়ার দাখিল ও আলিম পাশের সনদপত্র দুইটি ভূয়া বলে প্রমানিত হয়।তদন্তে জানা গেছে, ১৯৮৯ সালে সমগ্র নাটোর জেলায় একমাত্র আলিম পরীক্ষা কেন্দ্র ছিল  জামহুরিয়া টাইটেল মাদ্রাসা। উক্ত কেন্দ্রের নথিপত্রে দেখা যায় হোগলবাড়িয়া সিনিয়র মাদ্রাসা নামে নাটোর জেলায় কোন মাদ্রাসা নেই।এই কেন্দ্র থেকে আব্দুর রব মিয়া নামে কোন ছাত্র আলিম পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে নাই।পাবনা জেলার চাটমোহর থানায় উক্ত নামের একটি মাদ্রাসা থাকলেও ১৯৮৯ সালে আব্দুর রব মিয়া নামের কোন ছাত্র আলিম পরীক্ষায় অংশ গ্রহন করে নাই পাশও করে নাই।বিষয়টি জানা জানি হওয়ায়  তদন্ত করেছেন  তৎকালীন কুষ্টিয়া জেলা রেজিস্ট্রার শামিমা সুলতানা। পরবর্তীতে জেলা রেজিস্ট্রার  মনিরুল হক প্রধান বিষয়টি নিয়ে অনুসন্ধান করেছিল। সেই তদন্ত আর আলোর মুখ দেখতে পারেনি।

বর্তমান কুষ্টিয়া জেলা রেজিস্ট্রার প্রভাকর সাহা বলেন, বিষয়টি সম্পর্কে আমি ফাইলে নোট দেখেছি। সব ঠিক আছে। কেউ অভিযোগ করলে আমিও তদন্ত করবো।

পূর্বের তদন্ত প্রক্রিয়া এবং সার্টিফিকেট যাচাই সম্পর্কে তিনি কোন কথা বলতে রাজী হন নি।

সনদ জালিয়াতি বিষয়ে আব্দুর রব মিয়া ওরফে দিলু কাজীর সাথে মুঠো ফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “এর আগে কে যেন অভিযোগ করেছিল। ওই বিষয়ে তৎকালীন জেলা রেজিস্ট্রার শামিমা সুলতানা তদন্ত করে রিপোর্ট দিয়েছে। সেখানে সব কিছুই ঠিকঠাক আছে। “এ বিষয়ে তিনি প্রতিবেদকের সাথে সামনাসামনি কথা বলতে চেয়েছেন।

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
31      
   1234
19202122232425
2627282930  
       
22232425262728
293031    
       
       
       
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.