বৃহস্পতিবার, ০৬ মে ২০২১, ১০:০২ পূর্বাহ্ন

খোকসা উপজেলার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গন যাচ্ছে কোনদিকে….?

এস এম নাজিম রেজা / ২৬০ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শনিবার, ২৫ জুলাই, ২০২০, ১:১৫ অপরাহ্ন

কোন দেশ কতটুকু সম্বৃদ্ধ তা পরিমাপের জন্য নির্ভর করে অনেক গুলি কপ্মোনেন্টের উপর  তার মধ্যে ক্রীড়ানৈপুন্য ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য  একটি উন্নয়নের অর্জনকে তরান্বিত করে। এই উপজেলার ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের পূর্বাপর আলোকপাত করতে চাইঃ-

প্রথমে ক্রীড়া অঙ্গনে আমার বাস্তব দেখার দৃষ্টে ষাটের দশক থেকে শুরু করে অদ্যবধি পর্যায় ক্রমে উল্লেখ করা প্রয়োজন বলে মনে করি। খোকসা হাইস্কুলের মাঠটি ছিলো মূল কেন্দ্রবিন্দু তাকে ঘিরে আরোও তিনটি মাঠে ফুটবল ও ক্রিকেট খেলার চলতো অনুশীলনী।দ্বিতীয়  মাঠ ছিলো হাইস্কুলের উত্তর পাশে বর্তমানে যেখানে কারিগরী শাখা ভবন নির্মিত হয়েছে। তৃতীয় মাঠের অবস্থান ছিলো খোকসা জানিপুর মডেল সরকারি প্রাইমারী স্কুলে বর্তমানে সে মাঠের  অস্তিত্ব নাই, সেখানে গড়ে উঠেছে নতুন নতুন স্কুল ভবন,নাই মাঠের অস্তিত্ব। চতুর্থ  মাঠ ছিলো কেন্দ্রীয় ইদগাহ ময়দানের উত্তর পাশে প্রয়াত লতিফ ডাক্তার সাহেবের পতিত জমিতে, তার বর্তমানে কোনো  চিহ্ন নাই।সমস্ত মাঠে চলতো খেলোয়াড়  তৈরীর  উৎসব। খেলোয়াড়গন নিজ দক্ষতা,প্রতিভায় নিচের ধাপ পেরিয়ে ১নং মাঠে খেলার যোগ্যতা অর্জন করতেন।সে সময় খেলোয়াড়গনের মধ্যে কয়েকজন জাতীয় দলে খেলার সুযোগ করে নিয়েছিলেন তার মধ্যে আমান ভাই, দুলাল হলদার(দোল দা) অন্যতম। কমলাপুরের জিন্নাহ ভাই,সিরাজ,আত্তাব, শোমসপুরের মহসিন ভাই, কানু ভাই,ফজলু ভাই,দুলাল,আন্জু,মাছুম,ওসমানপুরের সৈয়দ আব্দুর রউফ,সুপ্রভাত মালাকার,উথলী গ্রামের আবুল কাশেম স্যার ছিলেন  দূরন্ত ষ্ট্রাইকার, পাইক পাড়া মির্জাপুরের আক্কাচ আলী মাষ্টার,  ঈশ্বরদী একতারপুরের সহদেব বিশ্বাস,মনিন্দ্রদা, নৃপেন বাবু,আমবাড়িয়ার আমো ও খোকসার আব্দুল ওহাব এরা সকলেই ছিলেন  উচু মানের  খেলোয়াড়। এদের বেশীর ভাগ ধরণী থেকে বিদায় নিয়েছেন আর যারা আছেন  বেঁচে আছেন  অসুস্থতা নিয়ে।

মধ্যবর্তী সময়ে খেলোয়াড় তৈরীতে যার বিশেষ  অবদান তিনি আমাদের খোকসা জানিপুর হাইস্কুলের ক্রীড়া শিক্ষক প্রয়াত শেখ  মজিবর  রহমান লাল্টু স্যার তার নেতৃত্বে গড়ে  উঠেছিলো ফুটবল,ক্রিকেট, ভলিবল, এথলেটিক, জিমন্যাষ্টিক,লুডি ও কাঠি নৃত্যের প্রশিক্ষক। সেই সময় বর্শা,গোলক ও চাত্কি নিক্ষেপ করে এস,এম,আলীম রেজা ও আব্দুল ওহাব বিভাগ অবধি  প্রতিযোগিতায় অংশ গ্রহন করেন। পরবর্তিতে মনি পাল ও খান রাজুর প্রচেষ্টায়  বেশ কয়েক বছর চলার পর ধীরে ধীরে নিম্ন মুখী হয়ে পড়ে সকল খেলার  আসর।

বর্তমানে চলছে নিয়ম মানার খেলা।আন্ত স্কুল,ইউনিয়ন পর্য্যায়,উপজেলা পর্য্যায় সহ সকল খেলা হচ্ছে, নাই শুধু অনুশীলন কর্মকান্ড।ক্রিকেট খেলা শুরু  হয়েছিল ৬৩/৬৪সালের দিকে। তৎকালীন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব আনোয়ার আলীর  নেতৃত্বে।প্রয়াত  আব্দুল মজিদ স্যার,লাল্টু স্যার,শরীফ ভাই (মজিদ স্যারের ভাগিনা)শরীফ (২)তৎকালীন  স্যানিটারী ইন্সপেক্টর শামসুদ্দিন সাহেবের শ্যালক,সৈয়দ আব্দুর রউফ, পরবর্তী সময়ে মনি পাল,ডাঃজাহিদ হাসান,এ্যাডঃপ্রদীপ,সান্টু ওহাব,নির্মল নন্দী,আল মামুন,আইয়ুব হোসেন  হাবিবুর রহমান হবি আরও অনেকে।পরবর্তী সময়ে রাজুদের সময়ে অনেক ভালো ভালো খেলোয়াড় তৈরী  হয়েছে এবং দর্শকদের আনন্দ দানে সক্ষম হয়েছে। সকল খেলার আমপ্যায়ার ছিলেন অমল নন্দী পরে তাকে সহযোগিতা করেছেন রেজাউল মাষ্টার। একদিন  মাঠের  পাশ দিয়ে  যাচ্ছি দেখতে পেলাম একটি মেয়ে ব্যাটিং সজ্জিত হয়ে  বেদম হারে বল মারছে  একটি  ছেলেকে বলতেই বলল ও আমাদের  মুর্শীদা, মোস্তফা ডাক্তারের মেয়ে, বি,কে,এস, পি তে পড়ে  এবং সে জাতীয় মহিলা  দলের হয়ে দেশের প্রতিনিধিত্ব করে আমার মনটা ভরে গেল। এ পর্য্যন্ত বেশ কয়েকটি  দেশে খেলেছে  অনেক রান সংগ্রহ করেছে। আমি তার আরও সাফল্য কামনা করি।খোকসার সে কৃতি সন্তান তথা দেশের গর্ব।

বর্তমানে খেলার মাঠে খেলোয়াড় শুন্য। ছেলেদের খেলার প্রতি আগ্রহ নেই বললেই চলে।একটি মাত্র খেলার মাঠ শুকনা মৌসুমে অল্প সংখক খেলোয়াড়ের উপস্থিতি লক্ষ্য করা যায় তবে সন্ধ্যায় প্রচুর ছাত্র ও বহিরাগতদের  উপস্থিতি  লক্ষ্যনীয়।বৃত্তাকারে  বসে চলে মোবাইল চর্চা।এতে তারা শিক্ষনীয় বিষয় দেখে বলে মনে হয় না।যেটি সমাজের জন্য সুখকর নয়।এটি ভাবনার অবকাশ রাখে। এবার আসি সাংস্কৃতিক অঙ্গনে। ষাটের দশকে পরিচালিত হতো প্রয়াত রেবতীরমণ পাল মহাশয়ের একক নেতৃত্বে।পরবর্তিতে যোগ হয় রহমান পরিবার ও রেজা পরিবার এবং  অনেকে কলেবর  বৃদ্ধিতে সহযোগিতা করে যা পূর্ণ্যতা অর্জন করে।

এ সময় একমাত্র  উসাসের  নেতৃত্বে  সকল সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান গড়ে উঠতো।সরকারী / বেসরকারী  যাবতীয় অনুষ্ঠান সাজাতে যার ভূমিকা  মূল তিনি ডাঃ রেজাউল  করিম।তার চিন্তাতে ছিলো নতুন  কিছু সৃষ্টি। অনেক সুন্দর অনুষ্ঠান পরিছন্ন ও সাবলীল। মানুষ  আগ্রহ নিয়ে উপভোগ কটতো সকল পরিবেশনা। তিনি ছিলেন উচু মানের  একজন সঞ্চালক ও উপস্থাপক।খোকসা উপজেলা উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তার উপস্হাপনা দেখে  জেলা  প্রশাসন  মিরপুর উপজেলা উদ্বোধনী সভায় তাকে উপস্থাপনার জন্য অনুরোধ করলে তিনি সেখানেও  দক্ষতার সঙ্গে অনুষ্ঠান উপস্থাপনার কাজ সম্পন্ন করেন। এখন থানার পাড়ার রফিকুল ইসলাম তার সঞ্চালনা ও উপস্থাপনা করে অনেক সুনাম কুড়িয়েছেন।

শিল্পী হিসাবে মনি পাল , সুশান্ত মজুমদার, সুমন মজুমদার, সজল বিশ্বাস,স্বপন মৃধা, জিয়া,সুজন,রেজোয়ান,আল-মামুন আরও অনেকে। মেয়ে দের মধ্যে পম্পা চ্যাটার্জী, উল্কা সাহা,তন্দ্রা চক্রবর্তী, সেতু চক্রবর্তী,ইভা, রিনি আফরোজ,লাবন্য ও অনেকে।  এখন খোকসা উপজেলায় বেশ কয়েকটি সংগীতের স্কুল ও সংগঠন আছে কিন্তু কোন সংগঠনে ছেলে শিক্ষার্থী নাই বললেই চলে। এ ব্যাপারে ছেলেদের  আগ্রহ শুন্যের কোটায়। কোন কোরাস গানের জন্য ছেলে কন্ঠ মেলেনা খোঁজ নিলে দেখা  যাবে একই সমস্যা সেটা হলো মোবাইল  চর্চা।বিষয়টি অভিভাবক  ভাবতে হবে।বর্তমানে শিক্ষা  প্রতিষ্ঠান সহ গান ও নৃত্যের স্কুল বন্ধ আছে সে কারণ সংগীত ও নৃত্য শিক্ষক গন মানবেতর জীবন  যাপন করছে।

পরিশেষে খেলার মাঠ,সাংস্কৃতিক অঙ্গন প্রতিটি  ক্ষেত্রে ছেলেদের থেকে মেয়েরা এগিয়ে যাচ্ছে সামনের সারিতে হয়তো  এমন দিন আসবে যেদিন ছেলেদের  জন্য কোন জায়গা থাকবেনা তাই ছাত্র সমাজের প্রতি আহবান থাকবে, সকল ক্ষেত্রেই তাদের অগ্রণী ভূমিকা থাকবে সুফল বয়ে আনবে এই প্রত্যাশায় ধন্যবাদ।

 

ছবিতে স্বপত্নীক লেখক  এস এম নাজিম রেজা ।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
     12
3456789
10111213141516
17181920212223
24252627282930
31      
   1234
19202122232425
2627282930  
       
22232425262728
293031    
       
       
       
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.