বুধবার, ০৩ মার্চ ২০২১, ১২:০৮ অপরাহ্ন

ভয়কে জয় করেছে যে, মানুষ হয়েছে সে !

মোঃ শহিদুল ইসলাম / ২২৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শুক্রবার, ২৪ জুলাই, ২০২০, ৫:৪৮ অপরাহ্ন

যে খুলে দিল মোর নিখিল ভূপন সে মোর শিক্ষাগুরু তার স্মরণে করি  আজ এই নিবেদন। আমি আমার মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন সাব্দার স্যারের কথা বলতে চাচ্ছি।  করোনাকালিন সময়ে বাসায় দিন যায় রাত আসে তারিখ দিন ক্ষনের কথাও অনেক সময় ভুলেই যাচ্ছি। তার মানে কাজ না থাকলে যা হয়। তবে কাজ না থাকলেও চিন্তা এবং মনোনজগত প্রখর এ বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। এই মুহুর্তে অনেক স্মৃতিই মনে পড়ছে, তবে বেশি মনে পড়ছে শ্রাবণের বাদল দিনে আমার শিক্ষা জীবনের গুরুত্বপূর্ণ একজন শিক্ষকের কথা। উনি আমার প্রিয় মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শ্রদ্ধেয় জনাব মোঃ সাব্দার হোসেন স্যারের কথা। সাব্দার স্যারের নাম উচ্চারিত হওয়ার সাথে সাথে প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীদের শরীরে রোমাঞ্চিত হয়ে ওঠে নিশ্চয়ই । মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের পড়ালেখা আমি আজও ভুলতে পারি নাই। মনে হয়েছে এখান থেকেই আমার জীবন গড়া শুরু হয়েছে। আমি এখনো মাঝে মধ্যে স্বপ্ন দেখি স্কুলে পরীক্ষা দিচ্ছি। আর প্রিয় সাব্দার স্যার স্কুলের সেই পরীক্ষার হলে দায়িত্ব পালন করছেন।

কুশলীবাসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রীর কাছে স্যার ছিলেন এক বিরাট ভয়ের নাম। স্যারের দেখে ভয় পাননি এমন কোন ছাত্র-ছাত্রী খুব কমই ছিলো কুশলীবাসা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে। আমার খুব মনে আছে, স্যার ষষ্ঠ শ্রেনী থেকে এস,এস,সির কোচিং ক্লাস পর্যন্ত ছাত্র-ছাত্রীদের একজন প্রকৃত অভিভাবকের ভূমিকায় থাকতেন। ষষ্ঠ শ্রেনীর পৌরনীতি আর ইংরেজি দ্বিতীয় পত্র দিয়ে আমাদের সাথে স্যারের হাই স্কুল জীবন শুরু হয়েছিল। স্যারের এই পৌরনীতি এবং ইংরেজি দ্বিতীয় পত্রের পড়া কম্পিলিট না করে কোন ছাত্র-ছাত্রীই ক্লাসের উপস্থিত হননি আমার ধারনা। আমার কথা বলছি,আমি তেমন ভাল ছাত্র ছিলাম না। এমনকি “আমি কোন স্যারের প্রিয় ছাত্র ছিলাম না, তবে সব স্যারই ছিলেন আমার খুব প্রিয় “। আমি স্যারের পড়া না করে ক্লাসে উপস্থিত কমই হতাম। প্রয়োজনে স্যারের পড়া না হওয়ার কারণে স্কুল ফাকি দিয়েছি অনেক দিন। স্যারকে আসলেই একজন মানুষ গড়ার কারিগর নিসন্দেহে বলা যেতে পারে। আমরা যারা স্যারের প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী একটু গভীর ভাবে চিন্তা করলে বুঝতে পারি আমাদের জীবন গড়ার ক্ষেত্রে স্যারের যে অনবদ্য ভূমিকা তা কোন দিন পরিশোধ যোগ্য নয়। শ্রদ্ধেয় সাব্দার সারের জন্য আমরা এখন অনেকেই অনেক ভাল কর্মক্ষেত্রে আছি। স্যারকে মূল্যায়ন করার যোগ্যতা আমার নেই।তারপরেও স্যারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

সংবাদ পেলাম আমাদের শ্রদ্ধেয় স্যার হার্ট অ্যাটাক করে অসুস্থ অবস্থায় কুষ্টিয়া সদর হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আছেন। এই মুহূর্তে স্যারের স্নেহ, আদর, ভালোবাসা ও শাসনের স্মৃতি খুব মনে পড়ছে। স্যারের জন্য হৃদয় কেদে যাচ্ছে। জাতীয় অধ্যাপক রাজ্জাক সারের একটা উক্তি মনে পড়ছে, ” মাতৃদুগ্ধর প্রতি শিশুর যেমন অধিকার তেমনই শিক্ষকের কাছ থেকে স্নেহ ভালোবাসা পাওয়া ছাত্র-ছাত্রীদের অধিকার “।  শ্রদ্ধেয় সাব্দার স্যারের দিকে তাকালে আমাদের বুঝতে আর বাঁকি থাকে না

পরিশেষে বলছি শ্রদ্ধেয় সাব্দার স্যারকে ভয় করে যারা পড়ালেখা করেছেন তারাই মানুষ হয়েছেন। প্রতিটি ক্ষেত্রেই ভয়কে জয় করুন, জীবন গড়াই সহায়ক হোন। আল্লাহ তুমি আমাদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অবসরপ্রাপ্ত শ্রদ্ধেয় প্রিয় সাব্দার স্যারকে দ্রুত সুস্থতা দান করুন এবং শুভানুধ্যায়ীগণ সবাই আমার স্যারের জন্য দোয়া করবেন স্যার যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন।

আমিন।।

 

সম্পাদকের দু’টি কথাঃ

 

আমার পরম শ্রদ্ধেয় সাব্দার স্যারকে ভয় করে আমি নিজেই পড়ালেখা করেছি ।  স্যারের পড়া না করে আমি স্কুলে যাইনি । যখন শুনতে পেলাম সাব্দার স্যার অসুস্থ তখনই আমার হৃদয় কেঁপে উঠল ।  আমি স্যারের সুস্থতা কামনা করছি আর সবাই স্যারের জন্য দোয়া করবেন স্যার যেন দ্রুত সুস্থ হয়ে ওঠেন ।

 

পুলক কুমার সরকার

সম্পাদক ও প্রকাশক

দৈনিক বাংলার রূপকথা 

 

 

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
1234567
891011121314
15161718192021
22232425262728
293031    
       
       
       
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.