সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুমারখালীতে অনুমোদন ছাড়া গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে জরিমানা । শেরপুরে মাস্ক পরাতে মোবাইল কোর্টের অভিযানে দণ্ডিত ১৪ । বিলুপ্তির পথে গরু দিয়ে হাল চাষ ।।বাংলার রূপকথা।। রাজাকাররা যেমন মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারেনি তেমনি দুর্নীতিবাজরাও মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারবে না–রোকন । খোকসা পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন “শান্ত” । শেরপুরে পরিবহন শ্রমিক-যাত্রীদের মাস্ক পরাতে অভিযানে “ইউএনও” । শহিদ ডাঃ মিলনের মৃত্যুর পর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ত্বরান্বিত হয়-রোকন । কুমারখালী থানা পুলিশের অভিযানে ধর্ষণ মামলার আসামিসহ আটক-০৯;কারাগারে প্রেরণ । খোকসা পৌরসভা নির্বাচনে আ.লীগের একক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র তারিকুলের নাম কেন্দ্রে । নতুন দিগন্তের সূচনায় যুগান্তকারী “দৈনিক সময়ের কাগজ” পত্রিকার প্রতিনিধি সভা ।
ঘোষনা :
সত্য প্রকাশই আমাদের লক্ষ্য দৈনিক বাংলার রূপকথা ডটকমে আপনাকে স্বাগতম ।

কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসের হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা ও তার স্ত্রীসহ ৫জনের বিরুদ্ধে দুদকের মামলা ।

ক্রাইম রিপোর্টার / ৫৫ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১০:১৫ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ার বহুল আলোচিত সিভিল সার্জন অফিসের সাবেক হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস ও তার স্ত্রীসহ ৫ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেছে দুনীতি দমন কমিশন (দুদক) ।

বৃহস্পতিবার (১৯’নভেম্বর)কুষ্টিয়ায় ৫জনের নামে দুনীতি দমন কমিশন পৃথক ৩টি মামলা করেছে। যার মধ্যে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সর্ম্পত্তি অর্জনের জন্য আব্দুল কুদ্দুস ও তার স্ত্রীর নামে ২টি এবং মৃত ব্যাক্তিকে জীবিত দেখিয়ে সম্পত্তি ক্রয় বিক্রয় অপরাধে মামলা হয়েছে ১টি। কুষ্টিয়া দৌলতপুর উপজেলার সাবেক সাবরেজিষ্ট্রার ও বর্তমানে ১১/৩ দাদাপুর রোড, থানাপাড়ায় বসবাসরত শরিয়ত হোসেন, দলিল লেখক বাহা উদ্দিন, বাছি খাতুন ও লোকমান হোসেনের নামে জমি জালিয়াতি করে ক্রয় বিক্রয়ের মামলাটি করেছেন, কুষ্টিয়া দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন। মামলা নং-২, তাং-১৯.১১.২০২০খ্রিঃ। দন্ডবিধির ৪২০, ৪৬৭, ৪৬৮, ৪৭১, ১০৯ এবং ১৯৪৭ সালের দূর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫/২ ধারা।

কুষ্টিয়ার সিভিল সার্জন অফিসের সাবেক হিসাব রক্ষণ কর্মকর্তা আব্দুল কুদ্দুস ও তার স্ত্রী আছিয়া খাতুনের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসংগতি পূর্ণ সম্পদ অর্জন ও দখলে রাখার অপরাধে মামলা করেছে দুনীতি দমন কমিশন (দুদক)।

কুষ্টিয়া দুদকের উপ-সহকারী পরিচালক নাছরুল্লাহ হোসাইন বাদী হয়ে এ মামলাটি করেন। আব্দুল কুদ্দুসের নামে মামলা নং-৪ ও তার স্ত্রীর নামে মামলা নং-৩ তাং-১৯.১১.২০২০খ্রিঃ। ধারা দুর্নীতি দমন কমিশন আইন ২০০৪ এর ২৬ (২), ২৭ (১) ধারা এবং মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইন ২০১২ এর ৪ (২) ও ৪ (৩) ধারা।

জানা গেছে ,কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসের হিসাব রক্ষক আবদুল কুদ্দুসের চাকরি জীবনের শুরুটা মালি হিসেবে। ১৯৮০ সালে কুষ্টিয়া শহরের নিশান মোড়ের সিভিল সার্জন পরিচালিত ম্যালেরিয়া স্বাস্থ্য কেন্দ্রে প্রথম যোগদান। ডিউটি স্বাস্থ্য কেন্দ্রের বাগান ও গাছ পরিচর্যা। কয়েক বছরের মধ্যেই অফিস সহকারী হিসেবে পদোন্নতি। যোগদান করেন কুষ্টিয়া নার্সিং ইন্সটিটিউটে। ১৯৯০ সালের দিকে আরেক দফা পদোন্নতি পেয়ে কুষ্টিয়া সিভিল সার্জন অফিসের হিসাব রক্ষক হন আবদুল কুদ্দুস।

এর পরের গল্পটা আলাদীনের আশ্চর্য প্রদীপের দৈত্যের গল্পকেও যেন হার মানায়। মালী থেকে হিসাবরক্ষক আবদুল কুদ্দুস কয়েক বছরের ব্যবধানে বনে গেছেন অঢেল বিত্তবৈভবের মালিক।

কুষ্টিয়া শহরে রয়েছে তার দুটি বহুতল ভবন ও একটি একতলা ভবন। শহরের অভিজাত এলাকায় আছে ফ্ল্যাট। মার্কেটে আছে একাধিক দোকান ও ফ্লোর। ঢাকায় রয়েছে দুটি ফ্ল্যাট। স্ত্রী-সন্তান থাকেন ঢাকার ফ্ল্যাটে। চলাফেরা করেন দামি প্রাইভেট কারে। নিজে থাকেন কুষ্টিয়ার বাড়িতে। এছাড়াএকাধিক ব্যাংকে রয়েছে তার কোটি টাকা।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়ার স্যার ইকবাল রোডের ২৬/১ নম্বর বাড়িটি দেড় কোটি টাকা দিয়ে কিনেছেন আবদুল কুদ্দুস। চার কাঠা জমির ওপর অবস্থিত ‘প্রবাসী কেয়া’ নামে আলিশান বাড়িটি তার স্ত্রীর নামে রেজিস্ট্রি করা হয়েছে। চার তলাবিশিষ্ট বাড়িটিতে রয়েছে ৮টি ফ্যাট। এগুলো থেকে প্রতি মাসে ভাড়া পান প্রায় ৫০ হাজার টাকা। কুষ্টিয়া শহরের কোর্টপাড়া এলাকায় পাঁচ কাঠা জমির ওপর আবদুল কুদ্দুস নিজেই নির্মাণ করেছেন পাঁচ তলাবিশিষ্ট আলিশান বাড়ি। ২/২ শহীদ আবদুল হামিদ রোডের ‘শাওলী ভিলা’ নামে বাড়িটি নির্মাণ করেন তিনি। বর্তমানে বাড়ির সব তলাতেই ছাত্রী হোস্টেল। প্রতিটি রুমে তিন থেকে চারটি বেড বসিয়ে কলেজের শিক্ষার্থীদের কাছে ভাড়া দেয়া হয়েছে। শহরের চৌড়হাস এলাকায় আবদুল কুদ্দুস এক তলাবিশিষ্ট আরও একটি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। উপজেলা পরিষদের সামনে ওসিম-কাসিম সড়কের ওই বাড়িটি চার কাঠা জমির ওপর নির্মিত। বাড়িতে রয়েছেন তিনজন ভাড়াটিয়া। বাড়ি দেখভালের জন্য আলমগীর হোসেন নামে স্থানীয় এক যুবক নিয়োজিত আছেন। শহরের সবচেয়ে অভিজাত মার্কেট হিসেবে পরিচিত পরিমল টাওয়ারের প্রথম ও দ্বিতীয় তলায় ৩টি দোকান ও চার তলার অর্ধেক ফোর কিনেছেন আবদুল কুদ্দুস।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পরিমল টাওয়ারের এক কর্মকর্তা জানান, ফ্লোর ও দোকানগুলো স্ত্রী ও তার নিজের নামে কেনা হয়েছে।

ওই টাওয়ারের ব্যবসায়ীরা জানান, প্রথম তলার একটি দোকান ৫০ লাখ ও দোতলার দোকান ৩০ লাখ টাকায় কেনা হয়েছে। এছাড়াও শহরের অভিজাত এলাকায় ফ্ল্যাটসহ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় জমি রয়েছে তার। কুষ্টিয়ার একাধিক ব্যাংকে রয়েছে তার কোটি টাকা। রাজধানী ঢাকায়ও আবদুল কুদ্দুসের সম্পদ রয়েছে। ঢাকার মিরপুর-১০ ও শ্যামলীতে দুটি ফ্লাট আছে তার। মিরপুরের ফ্লাটে থাকেন স্ত্রী ও সন্তানরা। ঢাকায় স্ত্রী ও সন্তানদের চলাচলের জন্য কিনে দিয়েছেন প্রাইভেট কার।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
এক ক্লিকে বিভাগের খবর