শনিবার, ২৫ জুন ২০২২, ১০:৩৪ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়ায় কাঠ ব্যবসায়ী রেজাউল হত্যার মূল মাষ্টারমাইন্ড চেয়ারম্যান স্বপন মাষ্টার-banglarrupkotha.com

মতিয়ার রহমান / ১১৪
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ১২ নভেম্বর, ২০২০, ১:৪৬ অপরাহ্ন

কাঠ ব্যবসায়ী রেজাউলকে হত্যার জন্য দুই দফা গোপন বৈঠক হয়। হত্যার দিন সকাল থেকে রেজাউলের উপর নজর রাখা হয়। হত্যার মুল মিশনে অংশ নিতে বাইরের এলাকা থেকে ভাড়া করা হয়ট তিনজনকে । অস্ত্র জোগাড় করা হয় । সুবিধামত স্থানে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে ২০ মিনিটের মধ্যে মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়। নিজে উপস্থিত থেকে রেজাউলের মৃত্যু দেখেন। হত্যকারীদের হাতে রক্তের দাগ শুকানোর আগেই ভাড়া করা টাকা পরিশোধ করা হয়। লাশ ফেলে রেখে অস্ত্র গুছিয়ে নিয়ে বীরদর্পে চলে আসে হত্যাকারীরা। এই সবের মুল মাষ্টার মাইন্ড স্থানীয় কুষ্টিয়ার আব্দালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান স্বপন মাষ্টার।

চেয়ারম্যান স্বপন মাষ্টারের একান্ত সহচর গ্রেফতারকৃত আনোয়ার আদালতে ১৬৪ ধারায় এমনটিই স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ৩ নভেম্বর কুষ্টিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে মহাসিন হাসান এই আসামির জবানবন্দি রেকর্ড করেন। পরে আনোয়ার হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন বিজ্ঞ আদালত। পুলিশ এবং আদালত সূত্র বলছে, আনোয়ার হোসেনের দেওয়া জবানবন্দিতে রেজাউল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যার কথা আদালতে স্বীকার করেছেন।

২০২০ সালের ২২ জানুয়ারী বিকেল ৫টার দিকে কুষ্টিয়া সদর উপজেলার আব্দালপুর ইউনিয়নের দেড়িপাড়া গ্রামের মাঠে রেজাউল ইসলাম (৩২) নামে যুবককে কুপিয়ে ও পায়ের রগ কেটে হত্যা করা হয়।

রেজাউল ইসলাম আব্দালপুর গ্রামের মসলেম হকের ছেলে। তিনি পেশায় একজন কাঠ ব্যবসায়ী ছিলেন ।

আসামী আনোয়ার হোসেন মল্লিক পশ্চিম আব্দালপুর গ্রামের মৃত মজিবর রহমানের ছেলে।

আনোয়ার হোসেন পশ্চিম আব্দালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন মাস্টারের মোটরসাইকেল চালানোর কাজ করতেন প্রায় ৭ থেকে ৮বছর।

স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে আসামী আনোয়ার হোসেন মল্লিক বলেন, আমি মোঃ আনোয়ার হোসেন মল্লিক। কৃষিকাজ করি। আমি দীর্ঘদিন যাবত পশ্চিম আব্দালপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন মাস্টারের মোটরসাইকেল চালানোর কাজ করি। আনুমানিক ৭/৮বছর হবে। আমি চেয়ারম্যানের সাথে রাতে ঘুম বাদে সব সময় থাকতাম। সে যেখানে যেতে চাইত সেখানে আমি নিয়ে যেতাম। প্রায় দুই বছর আগে আমাদের গ্রামে গ্রাম্য কাইজাতে (গ্রাম্য দুই পক্ষের মারামারী) চেয়ারম্যান আলী হায়দার স্বপন মাষ্টারের ভাই ময়নুউদ্দিন বিশ্বাস নিহত হয়। কিছুদিন পর মঈনুদ্দিনের ছেলে ছাত্রলীগ নেতা হালিম জানতে পারে যে তার বাবাকে রেজাউল হত্যা করেছে। রেজাউলের বাড়ি টেকপাড়া (পশ্চিম আব্দালপুর)। হালিম পরবর্তীতে স্বপন চেয়ারম্যানের কাছে এসে তার পিতা হত্যাকারীর কথা জানায়। হালিম স্বপন চেয়ারম্যানকে বলে যে, চাচা আমার বাবাকে হত্যা করে রেজাউল বুক উচু করে ঘুরে বেড়াবে আর আমরা কিছু বলতে পারব না, আপনি কি করছেন? চেয়ারম্যান তখন হালিমকে বলে, চুপ থাক আমি বিষয়টা দেখবো। চেয়ারম্যান এ বিষয়ে কথা বলার জন্য আমাদের গ্রামের দিপু চেয়ারম্যানের আপন ভাই সহিদুল, সেন্টু ও মনিরুলকে ডাকে। সকাল ১০টার দিকে ওনারা সবাই বিশ্বাস পাড়া মাদ্রাসার পাশে মুরগির ফার্মের মধ্যে গোপনে বৈঠক করে। ওই সময় রেজাউলকে হত্যার পরিকল্পনা করা হয়। তখন শহিদুল বলে, রেজাউলকে মারতে হলে আমরা নিজেরা মারলে হবে না, বাইরের লোক দিয়ে মারতে হবে, এতে ভালো খরচ পাতি লাগবে। চেয়ারম্যান বলে ঠিক আছে ব্যাপারটা আমি তাহলে দেখছি। এই বলে চেয়ারম্যান পাশ্ববর্তি হরিনাকুন্ডু থানা (ঝিনাইদহ জেলা) ভায়না ইউনিয়নের সমীর চেয়ারম্যানকে ফোন করেন। ফোন দিয়ে তিন জন সাহসী লোক চান। সমীর চেয়ারম্যান স্বপন চেয়ারম্যানকে জানান যে লোক নিলে তো ভালো খরচ পাতি দেওয়া লাগবে। স্বপন চেয়ারম্যান বলেন, ওটা আমি দেখবো। রেজাউলকে হত্যার আগের দিন স্বপন চেয়ারম্যান, দিপু, সহিদুল, সেন্টু, মনিরুল, রনক, সবুজ ও মাসুদরা মিলে রাতের বেলা মাদ্রাসার পিছনে আবার গোপন মিটিং হয়। মিটিংয়ে সহিদুলকে বলা হয় সে যেন পরদিন সারাবেলা রেজাউলকে ফলো (নজর) করে। রনক, মাসুদ ও সবুজকে (ভাড়া করার লোক) বলা হয় তারা যেন পরদিন সন্ধ্যা ৭টার দিকে লক্ষীপুর ছোট ব্রিজের পাশে থাকে। পরিকল্পনা মতো ঘটনার দিন রনক, মাসুদ ও সবুজ লক্ষ্মীপুর ব্রিজের কাছে সময় মতো চলে আসে। অন্যদিকে সেন্টু, মনিরুল ও দীপুরাও ব্রিজের কাছে যান। অপরদিকে, সহিদুল চেয়ারম্যানকে ফোন করে বলে যে, পাওয়া গেছে আপনি মল্লিককে নিয়ে ১১মাইল মাঠে যান। এই কথা শুনে চেয়ারম্যান আমাকে নিয়ে ১১মাইল মাঠে যান। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি রেজাউলকে রনক, সবুজ, সেন্টু, মনিরুল ও দিপুরা মিলে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কোপাচ্ছে। ২০ মিনিটের মধ্যে মারা গেলে শহিদুল চেয়ারম্যানকে বলে যে, ভাই কাজ হয়ে গেছে টাকা দেন। এরপর চেয়ারম্যান ৫০ হাজার টাকা দেয় সহিদুলকে। সহিদুল সে টাকা রনক, মাসুদ ও সবুজকে দিয়ে তাদের দ্রুত চলে যেতে বলে। অস্ত্রপাতি নিয়ে সহিদুল মাঠ দিয়ে বাড়ির দিকে রওনা দেয়। আমি চেয়ারম্যানকে নিয়ে বাড়ি ফিরে আসি। চেয়ারম্যানকে বাড়ি পৌছে দিয়ে আমি আমার বাড়িতে চলে আসি।

 


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
  12345
13141516171819
20212223242526
27282930   
       
      1
2345678
9101112131415
16171819202122
23242526272829
3031     
    123
45678910
11121314151617
18192021222324
252627282930 
       
14151617181920
21222324252627
28293031   
       
21222324252627
28      
       
     12
3456789
31      
  12345
20212223242526
2728293031  
       
2930     
       
    123
45678910
       
  12345
27282930   
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
31      
   1234
19202122232425
2627282930  
       
22232425262728
293031    
       
       
       
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.