রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০১:০০ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
বিলুপ্তির পথে গরু দিয়ে হাল চাষ ।।বাংলার রূপকথা।। রাজাকাররা যেমন মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারেনি তেমনি দুর্নীতিবাজরাও মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারবে না–রোকন । খোকসা পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন “শান্ত” । শেরপুরে পরিবহন শ্রমিক-যাত্রীদের মাস্ক পরাতে অভিযানে “ইউএনও” । শহিদ ডাঃ মিলনের মৃত্যুর পর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ত্বরান্বিত হয়-রোকন । কুমারখালী থানা পুলিশের অভিযানে ধর্ষণ মামলার আসামিসহ আটক-০৯;কারাগারে প্রেরণ । খোকসা পৌরসভা নির্বাচনে আ.লীগের একক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র তারিকুলের নাম কেন্দ্রে । নতুন দিগন্তের সূচনায় যুগান্তকারী “দৈনিক সময়ের কাগজ” পত্রিকার প্রতিনিধি সভা । কলারোয়াতে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে অভিযানে “ইউএনও” । কুষ্টিয়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স’র ভুয়া পরীক্ষা দিতে গিয়ে দুই যুবক কারাগারে ।
ঘোষনা :
সত্য প্রকাশই আমাদের লক্ষ্য দৈনিক বাংলার রূপকথা ডটকমে আপনাকে স্বাগতম ।

কলারোয়ায় একই পরিবারের ৪জনকে জবাই করে হত্যা, সাড়ে ৪মাসের শিশু জীবিত উদ্ধার!

তরিকুল ইসলাম,স্টাফ রিপোর্টার / ৪৯৭ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ০১:০০ অপরাহ্ন

সাতক্ষীরার কলারোয়ায় একই পরিবারের ৪জনকে জবাই করে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার (১৫অক্টোবর) ভোররাতে উপজেলার ৯নং হেলাতলা ইউনিয়নের খলসি গ্রামে এই অপ্রীতিকর  ঘটনাটি ঘটেছে।

নিহতরা হলেন, উপজেলার খলসি গ্রামের মৃত শাহাজান আলীর ছেলে হ্যাচারি মালিক শাহিনুর রহমান (৪০), তার স্ত্রী সাবিনা খাতুন (৩০), ছেলে সিয়াম হোসেন মাহি (৯) ও মেয়ে আনিকা তাসলিম (৬)।

নিহত শাহিনুর রহমানের ছোট ভাই রাহানুর ইসলাম জানান, বাড়িতে মা ও বড় ভাইয়ের পরিবার সহ তারা ছয়জন থাকতেন। মা বুধবার আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলেন। তিনি (রাহানুর) ছিলেন পাশের ঘরে। ভোরে পাশের ঘর থেকে তিনি বাচ্চাদের চেঁচানোর শব্দ শুনতে পান। তাৎক্ষণিক এগিয়ে গিয়ে দেখেন ঘরের দরজা বাইরে থেকে আটকানো আছে। দরজা খুলে দেখা যায় বিভৎস দৃশ্য। এর কিছুক্ষণ পর বাচ্চারাও মারা যায়।

তিনি আরও জানান, তাদের সাথে জমি জায়গা নিয়ে পাশের কিছু লোকের বিরোধ ছিল। কিন্তু কারা এ ঘটনা ঘটালো তা বুঝতে পারছি না।

কলারোয়া থানার পুলিশ পরিদর্শক (তদন্ত) হারান চন্দ্র পাল, ঘটনাস্থল থেকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, নিজেদের ঘরের মধ্যে গৃহ প্রধান শাহিনুর রহমানসহ ৪জনের রক্তমাখা লাশ উদ্ধার করা হয়েছে। এদের মধ্যে শাহিনুরের পা বাধা ছিল এবং তাদের চিলে কোঠার দরজা খোলা ছিল। ধারণা করা হচ্ছে ছাদের চিলে কোঠার দরজা দিয়ে হত্যাকারীরা ঘরের মধ্যে প্রবেশ করে এ ঘটনা ঘটাতে পারে। কিন্তু ওই ঘর থেকে তাদের সাড়ে ৪ মাসের শিশু আফরিনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত শাহিনুর রহমানের পূর্বের গ্রামের বাড়ী মনিরামপুর উপজেলায়। সে দীর্ঘ ১৮/২০বছর পূর্বে কলারোয়া উপজেলার হেলাতলা ইউনিয়নের খলসি গ্রামে জমি ক্রয় করে ঘরবাড়ী নির্মাণ করে ছেলে মেয়ে ও ভাই এবং তার মাকে সাথে নিয়ে বসবাস করে আসছেন। কিন্তু তার জমির পাশে মৃত অজেদ কারিগরের ছেলে আকবার আলী জোরপূর্বক ৫শতক জমি দখল করে নেয়। যা নিয়ে কয়েক দফায় ঝগড়া ও ছোট খাটো মারামারি ঘটনাও ঘটেছে । এনিয়ে কয়েকবার স্থানীয় ভাবে মিমাংসার জন্য শালিসে বৈঠক হয়। শাহিনুর রহমান হত্যার ৮/১০ দিন আগেও কলারোয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যানের রুমে শালিশও হয়েছে। কিন্তু জমি দখলের কোন সমাধান হয়নি। এদিকে শাহিনুর রহমানের আরেক ভাই আশরাফুল ইসলাম মালয়েশিয়ায় রয়েছে। এলাকাবাসীরা বলেছেন-রাহানুর রহমানের নামে কলারোয়া থানায় একটি ফেনসিডিলের মামলাও রয়েছে। তার ভাই শাহিনুর রহমানের নামেও একটি ফেনসিডিলের মামলা রয়েছে। কিন্তু ফেনসিডিলসহ গ্রেফতারকৃত রাহানুর তার ভাই শাহিনুর রহমানের নাম করে তাই থানায় শাহিনুরের নামে মামলা হয় বলে শোনা গেছে। এছাড়া গত কয়েকদিন আগে না কি ৫/৬জন ব্যক্তি মুখোশ পরে রাতের আধারে শাহিনুর রহমানের ঘেরের পাশে বাগানে ঘুরতে দেখা গেছে বলে শোনা যাচ্ছে। এছাড়া বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত শাহিনুর রহমান হেলাতলা ইউনিয়ন পরিষদের সামনে বাবুর চায়ের দোকানে চা খান আর সেখানে ৬/৭জনের সাথে বসে আইপিএল খেলা টিভিতে দেখেন। পরে তিনি বাড়ীতে যান বলে স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তি জানান। এছাড়া ওই ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য সোহরাফ হোসেন জানান-শাহিনুর রহমান ভাল মানুষ ছিলেন, নিজে নছিমন চালাতেন, পরে ৪/৫টি সাদা মাছের ঘের করেছেন। তার বাড়ীর জমি নিয়ে বিরোধ চলছে। কে বা কাহারা এ হত্যার মতো ঘটনা ঘটিয়েছে তা তিনি বলতে পারবেন না। তবে এঘটনায় সুষ্ঠ বিচার দাবী করেন তিনি।

ইউপি চেয়ারম্যান মোয়াজ্জেম হোসেন জানান, তিনি লোক মুখে খবর পেয়ে ঘটনা স্থানে যান এবং সাথে সাথে থানা পুলিশকে জানান। এদিকে ঘটনার খবর পেয়ে খুলনা এডিশনাল ডিআইজি একেএম সহিদুল ইসলাম, সাতক্ষীরা জেলা পুলিশ সুপার মোস্তাফিজুর রহমান, এএসপি আসাদুজ্জামান, সদর সার্কেল মির্জা সালাউদ্দীন, ডিবির ওসি ইয়াছিন আলম চৌধুরী, পিপিআইএর ওসি লস্কার জাহিদুল হক, সিআইডির পরিদর্শক আক্তারুজ্জামান, কলারোয়া থানার পুলিশ (পরিদর্শক তদন্ত) হারান চন্দ্র পাল, থানার সেকেন্ড অফিসার রাজ কিশোর পাল । কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমি জেরিন কান্তা, সহকারী কমিশনার ভুমি আকতার হোসেন, সিনিয়র মৎস্য অফিসার রবিন্দ্র নাথ মন্ডল, উপজেলা সমাজসেবা অফিসার শেখ ফারুক হোসেন, কলারোয়া উপজেলা আ.লীগের সভাপতি ফিরোজ আহম্মেদ স্বপন ঘটনা স্থলে উপস্থিত হন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শনকালে সাতক্ষীরা পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান পিপিএম (বার) বলেন, হত্যা করা হয়েছে কুপিয়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে একজন পুরুষ, একজন মহিলা, একটা ছেলে বাচ্চা এবং একটা মেয়ে বাচ্চাকে। আমরা এখানে এসেছি, প্রাথমিকভাবে এটাকে আমরা প্রিজার্ভ করেছি এবং কিভাবে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে, যে ধারালো অস্ত্রের মাধ্যমে তাদেরকে হত্যা করা হয়েছে সেগুলো শনাক্ত করেছি। পাশাপাশি সম্ভাব্য কারা এ ধরনের ঘটনা ঘটাতে পারে অথবা কি কারণে সংঘটিত হতে পারে সেগুলো আমরা পর্যবেক্ষণ করছি এবং সেটা তদন্ত সাপেক্ষে আমরা পরবর্তীতে জানাবো। তবে যে বা যারা এই ঘটনার সাথে সংশ্লিষ্ট থাকুক না কেন তাদেরকে অনুসন্ধানের মাধ্যমে খুঁজে বের করা হবে এবং ঘটনা সঠিকভাবে তদন্ত করা হবে। এক প্রশ্নের জবাবে এসপি মহোদয় বলেন, ‘সম্ভাব্য যতগুলো বিরোধ থাকতে পারে আমরা সবগুলো পর্যবেক্ষণ করব। সব গুলোকে আমরা গুরুত্ব দিয়ে দেখবো এবং সেটি কি কারণে সংঘটিত হয়েছে সেটা অবশ্যই তদন্তের মাধ্যমে বের করা হবে।

 

তিনি আরো বলেন, ‘এখনো পর্যন্ত কাউকে এভাবে আমরা প্রমানভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করিনি। আমরা আগে বিষয়গুলো ভালভাবে দেখছি। দেখার পরে যদি কারো নাম আসে তখন তাদেরকে আমরা জিজ্ঞাসাবাদ করব।

বেলা ১২ঃ০০ টায় জেলা প্রশাসক সাতক্ষীরা জনাব এস এম মোস্তফা কামাল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।তিনি সময় টিভিতে  সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। এসময় তিনি হত্যাকান্ডের সুষ্ঠ তদন্ত, প্রকৃত দোষীদের সনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। এছাড়া তিনি শিশু কন্যা আফরিন / মারিয়ার দায়িত্ব গ্রহন করেন। এবং উপজেলা নির্বাহী অফিসার কলারোয়া সাতক্ষীরাকে, বাচ্চাটির সার্বিক দেখাশোনার দায়িত্ব  প্রদান করেন।

পরে বিকালে ঢাকা থেকে খবর পেয়ে তালা-কলারোয়ার এমপি এড. মোস্তফা লুৎফুল্লাহ ঘটনা স্থান পরিদর্শন করে খোঁজ খোবর নেন এবং নিহতদের আত্নার শান্তি কামনা করেন। একই সাথে দোষি ব্যক্তিদের আইনের আওতায় এনে দ্রুত গ্রেফতারের জন্য প্রশাসনের প্রতি অনুরোধ জানান।

বিকালে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত  পরিবারের শিশু সদস্য আফরিনের জন্য দুধসহ প্রয়োজনীয় সামগ্রী প্রদান করা হয়।

এবিষয়ে কলারোয়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার মৌসুমি জেরিন কান্তা(ইউএনও) জানান,জেলা ও উপজেলা প্রশাসন নিহত পরিবারটি ও জীবিত মারিয়ার পাশে আছে।শিশু বাচ্চাটিকে বর্তমানে স্থানীয় মহিলা ইউপি সদস্যের জিম্মায় রাখা হয়েছে। তা ছাড়াও একাধিক প্রতিষ্ঠান ও এনজিওর  সাথে বাচ্চাটির আর্থিক সহায়তা,  নিরাপত্তা, দেখাশোনা,ও লেখাপড়ার বিষয়ে আলাপ করেছি।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
এক ক্লিকে বিভাগের খবর