বৃহস্পতিবার, ২৯ জুলাই ২০২১, ১১:২১ পূর্বাহ্ন

স্মৃতি চারণাঃ খোকসার প্রয়াত দ্বিজেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের গল্প পড়ুন!banglarrupkotha.com

এস এম নাজিম রেজা / ৫২৬ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১:৫০ অপরাহ্ন

একজন নির্লোভ,নিঃস্বার্থ,আত্মভোলা প্রয়াত দ্বিজেন্দ্রনাথ বিশ্বাসের সাহচর্য ও তার ছাত্র জীবনে আমার দেখা কিছু স্মৃতি চারণাঃ-একজন নির্লোভ,নিঃস্বার্থ, পর উপকারী, আত্মভোলা কোন ব্যক্তিকে যদি খুঁজে যাই তাহলেএ সংসারে তেমন মানুষের খুবই অভাব।আমার দেখা দৃষ্টিতে কেবল একজনকেই খুঁজে পাই তিনি কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার ঈশ্বরদী গ্রামের স্বর্গীয় দূর্জধন বিশ্বাসের একমাত্র পুত্র প্রয়াত দ্বিজেন্দ্র নাথ বিশ্বাস।আমি তার সম্পর্কে বিস্তারিত কিছু লিখতে চাই না কারণ ইতিপূর্বে খোকসার কৃতি সন্তান, বহু আইন গ্রন্হের প্রণেতা এ্যাডভোকেট পি,এমসিরাজ সহ অনেকেই লিখে সম্বৃদ্ধ করে গেছেন যা পাঠকের হৃদয়ে স্হান করে নিয়েছে।

আজ আমার দেখা কিছু সুন্দর স্মৃতি মনে লালন করে চলেছি সেই টুকু আপনাদের কাছে উপস্থাপন করার ইচ্ছে পোষন করছি -তখন আমি খোকসা জানিপুর প্রাইমারি স্কুলের ছাত্র (সে সময় এই নাম ব্যবহার হতো) হয়তো তৃতীয় শ্রেণির ছাত্র, ১৯৬১-১৯৬২ সাল হবে আনুমানিক, সে সময় প্রাইমারি স্কুল ছিলো হাইস্কুলের অংশ বিশেষ। আমরা সকাল বেলায় কয়েক জন ছাত্র হাইস্কুলে রক্ষিত আমাদের হাজিরা খাতা তৎকালীন কেরাণী বাবু তারাপদ মজুমদারের (প্রয়াত যতীন বাবু,সাবেক প্রধান শিক্ষকের ছোট ভাই) নিকট থেকে এনে আবার স্কুল শেষ হলে জমা দেওয়ার রীতি প্রচলন ছিলো। আমাদের স্কুল ছিলো  হাইস্কুলের হিন্দু ছাত্রাবাসের নিকট তিন কামরা বিশিষ্ট টিনশেড ঘর আর একটি রাস্তার পূর্ব পাশে দুই কামরা নিয়ে ছোট টিনশেড ঘর।

হাইস্কুলে ছিলো ” ই”সেফ একটি  মাত্র ভবন বাদ বাকী সবই ফাকা।ক্লাস চলছে হঠাৎ শুনি বিকট শব্দ স্কুলের উপর,দুই স্কুলের সমস্ত ছাত্র ছাত্রী বাইরে বেড়িয়ে গেছে,পার্শবর্তীএলাকা, বাজার থেকে জন সাধরণ এসে লোকে লোকরণ্য,দেখি মাঠের উপর দিয়ে একটা ছোট আকারের হেলিকপ্টার নামার জন্য ঘুরছে(তবে হেলিকপ্টার আসলে সবাই এখনো ভীড় জমায়),কিছু ক্ষনের মধ্যে কপ্টারটি নিচে অবতরণ করলো।ইতিমধ্যে থানা থেকে কিছু পুলিশ এসে গেল। কপ্টারটির সামনে সম্পূর্ণ গোলাকার সাদা স্বচছ কাচের তৈরী, নিচে বিরাট আকারের কোল বালিশের সাদৃশ্য রাবারের টিউব,উপরে পাখা সহ পিছনে পেঁচার লেজের মতো।অবতরণের সময় রাবারের টিউবের বসে।সবই ঠিক ঠাক চলছিলো বিপত্তি যখন কোন এক ব্যক্তি ঐ টিউবটি নেড়ে টিপ দিয়েছিলো,ঐ কপ্টারে থাকা দুই ইংরেজ সাহেব (দুই সিট বিশিষ্ট কপ্টার)নেমেই  ঐ ব্যক্তিকে পুলিশের নিকট সোপর্দ করলেন।হাজার হাজার মানুষ থানার সবদিক, রাস্তা মানুষের  ভীড়ে একদম ঠাসা।

ইংরেজরা কোন ভাবেই তাকে ছাড়বেনা। কেউ তাদের বুঝাতে পারছেনা যে,লোকটা  গ্রামের অশিক্ষিত, সাধারণ খেটে খাওয়া কৃষক, ঘন্টার পর ঘন্টা কেটে যাচ্ছে কিন্তু সে ব্যক্তির মুক্তি  হচ্ছে না,সে সময় দ্বিজেনদা দশম শ্রেণির ছাত্র তিনি এগিয়ে গেলেন তার মুক্তির জন্য থানায়।একজন নির্ভীক যোদ্ধার মতো।প্রায় এক ঘন্টার মতো চললো বোঝাপড়া, সেকি ইংরেজিতে অনর্গল বলতে থাকা শেষ অবদি তারা দাদার কথায় উদ্বুদ্ধ হয়ে সে ব্যক্তিকে মুক্তি দেন।সেদিনের কথা এখনো ভুলতে পারি নাই।জানিনা শেষ পর্য্যন্ত দাদার স্বরণে ছিলো কিনা।আজ অবধি এই মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন একজন ও আমার নজরে আসে নাই।দ্বিজেনদাকে বরাবর আমি দাদা বলতাম  তিনি আমার বাবার (শেখ ইন্তাজ উদ্দিন) ছাত্র ছিলেন সেই সুবাদে।  তিনি হয়তো সে কারণেই আমাকে একটু বেশীই স্নেহ করতেন।পাশে বসলেই  বলতেন তুমি আমার স্যারের ছেলে, অতি নিকটতম বলে পিঠে হাত দিতেন মনটা অমনি ভালো হয়ে যেতো, জানিনা তার মধ্যে কোন সম্মোহনী শক্তি ছিলো কিনা।তার প্রতি  শ্রদ্ধা আরও বেড়ে যেতো।এক সময় বাবু শচীন স্যার ও দ্বিজেনদা খোকসা ভেদী চাকীর বাড়িতে (এক সময় এটি এ,সি ল্যান্ডের অফিস ছিলো) ভাড়া থাকতেন। শচীন স্যারের বাসায় প্রায়ই গানের আসর হতো,তিনি একজন গানের রচয়িতা ছিলেন, সেই সময় দ্বিজেনদা মাঝে মধ্যে কখনো আসতেন।দ্বিজেনদার তখন দুটি ছেলে একটি দেবাশীষ আর একটি মাইকেল, একটির বয়স আনুমানিক ৫বছর,অন্যটি ৩বছর হবে।

রৌদ্রময় দুপুর বেলায় সরিষার তেল দিয়ে আচ্ছা করে পালিশ করছেন আর বলছেন জান এই তেল মাখলে শরীরের হার্ডনেস সহ রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়বে।পাশে দাড়িয়ে বৌদি মিটমিট করে হেসে চলেন। মনে হয় এইতো সেদিনের কথা,সহজে ভোলা যায় না।একদিন দাদা বললেন আজকে আমার ঘরে গান হবে।সাথে  তবলায় আছে মধুসুদন।আমাদের গান শেষ হলো বললাম দাদা এবার আপনি ধরুন,বললেন আমাকে গাইতে হবে। দাদার গান শুরু হোল,কাজী নজরুল ইসলামের গান,” হারানো হিয়া নিকুঞ্জ পথে কুড়াই ঝরা ফুল একেলা আমি। কি আবেগ, প্রান মন সবটুকু দিয়ে এরপর চোখ বন্ধ করে ধ্যানমগ্ন হয়ে গেলেন চললো২০ থেকে ২৫ মিনিট। গান শেষ করলেন ডিভোশন যতটুকু দেয়া কিছুই ছিলোনা বাকি।

যতদিন থাকবো এধরণীতে রবে মনে চিরদিন। কোনদিন তাকে রাগ করতে দেখিনি। তিনি ছিলেন মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন একজন সম্পূর্ণভাবে পরিপূর্ণ মানুষ।

ঈশ্বর তার আত্মার শান্তি বিধান  করুন এই টুকুন করুনাময়ের কাছে প্রার্থনা।

ছবিতে ভালোবাসার মানুষের সাথে লেখক

এস এম নাজিম রেজা

লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

 

[পাঠকের মতামতের জন্য সম্পাদক দায়ী নয়। লেখাটির দায়ভার সম্পূর্ন লেখকের]


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
   1234
262728293031 
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
31      
   1234
19202122232425
2627282930  
       
22232425262728
293031    
       
       
       
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.