রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১২:৫২ অপরাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
বিলুপ্তির পথে গরু দিয়ে হাল চাষ ।।বাংলার রূপকথা।। রাজাকাররা যেমন মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারেনি তেমনি দুর্নীতিবাজরাও মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারবে না–রোকন । খোকসা পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন “শান্ত” । শেরপুরে পরিবহন শ্রমিক-যাত্রীদের মাস্ক পরাতে অভিযানে “ইউএনও” । শহিদ ডাঃ মিলনের মৃত্যুর পর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ত্বরান্বিত হয়-রোকন । কুমারখালী থানা পুলিশের অভিযানে ধর্ষণ মামলার আসামিসহ আটক-০৯;কারাগারে প্রেরণ । খোকসা পৌরসভা নির্বাচনে আ.লীগের একক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র তারিকুলের নাম কেন্দ্রে । নতুন দিগন্তের সূচনায় যুগান্তকারী “দৈনিক সময়ের কাগজ” পত্রিকার প্রতিনিধি সভা । কলারোয়াতে মাস্ক ব্যবহার নিশ্চিত করতে অভিযানে “ইউএনও” । কুষ্টিয়ায় ড্রাইভিং লাইসেন্স’র ভুয়া পরীক্ষা দিতে গিয়ে দুই যুবক কারাগারে ।
ঘোষনা :
সত্য প্রকাশই আমাদের লক্ষ্য দৈনিক বাংলার রূপকথা ডটকমে আপনাকে স্বাগতম ।

খোকসার সৈয়দ আব্দুর রউফ’র গল্প পড়ুন;যিনি উঁচু নিচুর বেড়াজাল ভেঙে সুন্দর ব্যবহারে মুগ্ধতা এনেছিলো ।

এস এম নাজিম রেজা / ৪৩৮ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : রবিবার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১২:৫২ অপরাহ্ন

আজ থেকে প্রায় ৩০০ বছর পূর্বে সৌদি আরব থেকে ভারতের ঝিন্দ প্রদেশ (বর্তমানে এটি কোন প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত তা একমাত্র ঐতিহাসিক গন বলতে পারবেন) সহ অন্যান্য এলাকায় ইসলাম ধর্ম প্রচারের জন্য আগমন ঘটে, তাদেরই উত্তরসূরী কয়েকজন কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার ওসমানপুর গ্রামে এসে বসতি স্হাপন করেন এবং গড়ে তোলেন পীর বাড়ি, বিষয়টি জানালেন ঐ পীর বংশের একজন সদস্য যিনি বর্তমানে আলহাজ্ব সদর উদ্দিন খান দাখিল মাদ্রাসার অধ্যক্ষ জনাব সৈয়দ ওবায়দুল্লাহ সাহেব।

এলাকার জনগন এই পীর বাড়ির প্রতি যথেষ্ট শ্রদ্ধাশীল।বিভিন্ন জেলার, বিভিন্ন এলাকার জনগন এদের নিকট শিষ্যত্ব গ্রহণ করেছেন।তুলনামূলক ভাবে আমাদের এই এলাকাতে শিষ্যত্বের পরিমান কম বলে পরিলক্ষিত হয়।যাহোক আজকে সেই পরিবারের একজন সদস্য সম্পর্কে স্মৃতিচারণের উদ্দেশ্য নিয়ে হাজির হয়েছি আপনাদের সমীপে তিনি আমার শ্রদ্ধেয় চাচাজী সৈয়দ আব্দুর রউফ, পিতা মরহুম আব্দুর রাজ্জাক, মাতা সৈয়দা খোদেজা বেগম,তাদের একমাত্র সন্তান ছিলেন তিনি,জন্ম ১লা মার্চ ১৯৩৫ সাল।ছোট বেলা থেকেই ছিলেন ভীষণ দুরন্ত,খোলা মন,গরিবের প্রতি সহনশীল এবং মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন একজন সম্পূর্ণ অহংকার মুক্ত মানুষ। সদালাপী, উঁচু নিচুর বেড়াজাল ভেঙে সবার সাথে সুন্দর ব্যবহার মুগ্ধতা এনেছে সকল হৃদয়ে।

তার চলার গতি ছিলো প্রখর ও গতি সম্পন্ন,যখন বাই সাইকেল চালাতেন আবার মটরসাইকেল চালানোর ক্ষেত্রে সবার বেলায় ছিলো তারুণ্য ও গতিময়তা।

তিনি খোকসা জানিপুর হাইস্কুল থেকে ১৯৫২ সালে এস,এস,সি(বর্তমান সমমান) পাশ করেন চাকুরির নেশা পেয়ে মনে,খবরের কাগজ “ডেইলি নিউ নেশন” প্রফ রিডার হিসেবে কাজ করেন এক বছর।এক জায়গায় বসে কাজ করা তার চরিত্রের ভিন্নতা ফলে দিলেন চাকরিতে ইস্তফা আবার নুতন চাকরি খোঁজা শুরু হলো,এবারের চাকরি সাবরেজিস্টার অফিসে অফিস সহকারী হিসেবে শুরু হোলো কিন্তু এই অফিসের প্রচলিত আইন তার সাথে মিলিয়ে চলা সম্ভব না হওয়ায় দুই বছর পর ১৯৫৩ সালে ছুটলেন নুতন চাকরির আশায়,এবার জুটলো সহকারী সেনেটারী ইন্সপেক্টর হিসেবে চাকরি একটানা চাকরি, শেষের দিকে হেলথ ইন্সপেক্টর হিসেবে চাকরি শেষ করেন ও ১৯৯১ সালে অবসর গ্রহন করেন। ছাত্র জীবন থেকে সব ধরনের খেলাতে আসক্তি ছিলো অসাধারণ,ভালো ফুটবল খেলোয়াড় ওকোচের দায়িত্ব পালন করতেন। তার সংগী ছিলেন ওসমানপুরের ওস্তাদ ইদু মিয়া,দাতব্য চিকিৎসালয়ের শামসুল আলম ও মোসলেম  মিয়া।তাদের খেলোয়াড়ী মনোভাব, শৃঙ্খলাবোধ যা সবাইকে মুগ্ধ করতো,এখন এগুলো ভাবা বাতুলতা  মাত্র। খোকসাতে ক্রিকেট খেলা  আসে খোকসার তৎকালীন ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনাব আনোয়ার আলীর হাত ধরে। তার সাথে  ছিলেন প্রয়াত আব্দুল মজিদ স্যার,লাল্টু স্যার,সৈয়দ আব্দুর রউফ,স্বপন পাল,সুবল পাল,শরিফ (মজিদ স্যারের ভাগিনা), শরিফ ২য়(স্যানিটারী ইনেঃএর শ্যালক),আরও অনেকে। সেই ধারা বয়েচলেছে  অদ্যবধি।ব্যাডমিন্টন খেলার প্রতি ভীষণ আগ্রহ তার। আমার পিতা শেখ ইন্তাজ উদ্দিন, সহকারী শিক্ষা অফিসার প্রয়াত নেফাজ সাহেব,প্রয়াত আব্দুল মজিদ স্যার সহ আরও অনেকে। আমি দেখতাম কখন বাতিল শ্যাটেলটা পাব।দেখেছি তার মাতৃভক্তি, খেলা শেষ করে বাইসাইকেল নিয়ে সুরে পালের দোকান থেকে পেট ভরে মিষ্টি (প্রতি দিনের অভ্যাস) খেয়ে পৌঁছে যদুবয়রা মায়ের কাছে।

১৯৭৮-৭৯ সালের দিকে তখন প্রশাসনের সার্কেল অফিসার জনাব গোলাম নবী সহ আমরা সবাই (ফ্যামিলি সহ)চাচাজির ওসমানপুরের বসত বাড়িতে তার পুকুর পারে পিকনিক করতে যাই,সে সময় মিল্টন অনেক ছোট,সারাদিন অনেক আনন্দে কেটেছিল। পীর বাড়ির  সামনে অনেক বস্তার ধান তখন ঢেলে সাজানো হচ্ছে  দেখে সি,ও স্যার বললেন এত ধান এখানে কেন….? উত্তরে চাচাজি বলেন এগুলো মুরিদের দেওয়া সন্মানী,ধান আমাদের শরিকানদের মধ্যে বন্টন হবে,তবে আমি ধান গ্রহণ করি না।হয়তো গরীব কৃষকদের অভাবের কথা ভেবে নিতেন না এটা মহানুভবতার কথা মনে করিয়ে দেয়।তার মেঝো ছেলে  আব্দুল্লাহ আখের বলছে,অসুস্থ্য বাবাকে নিয়ে মটর সাইকেলে যাচ্ছি এক সময় একজন আমাকে ওভারটেক করে পাশ দিয়ে বেড়িয়ে গেল এতে আমার উপর বাবা অখুশি হলেন এবং আমাকে তিরস্কার করলেন, বাধ্য হয়ে আমি গাড়ির গতি বাড়িয়ে ঐ ব্যক্তি ওভারটেক করে তাকে পিছনে দেখে আমার পিঠে চাপড়ালেন বললেন সাবাস এই না হলে আমার  ছেলে। আমার বড় একটা

স্মৃতিকে সম্বৃদ্ধ করেছে। তিনি অনেক  জনহিতকর কাজ করে গেছেনঃ-তিনি ওসমানপুর হাই স্কুল প্রতিষ্ঠা করেন,ছিলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি। ইসলামী শিক্ষা সম্প্রসারণের জন্য দাখিল মাদ্রাসা প্রতিষ্ঠা করেন যার প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি ছিলেন তিনি।

গরীব চাষীদের ভাগ্য উন্নয়নের জন্য তিনি জি কে প্রজেক্টের সহ সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব  পালন করেন। এছাড়া  অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান উন্নয়নের আপ্রাণ চেষ্টা করে গেছেন।

তিনি  খোকসা উপজেলার পাশে একটি নুতন বাড়ি নির্মান করেন সেখানে বড় চাচীমা সহ বড় পুত্র মিল্টন, তার সহধর্মীনি শেফা খানম,মিল্টন পুত্র মিশু তাদের একমাত্র রাজকন্যা নিয়ে বাস করেন।তবে সবার মধ্যে বাবার গতি।সুন্দর সাজানো গোছানো সংসার।আমি সুযোগ পেলেই যাই সেখানে।বড় মেয়ে চামেলীর বিয়ের  আসরে উপস্হিতি ছিলো সেই সাথে কন্যা যাত্রীর।চামেলি হয়তো এখন নাতি নাতনি সাথে সময় কাটাচ্ছে। ছোট চাচিমার ৪ টি সন্তান বড় ছেলে আখের, মেঝো ছেলে জাহির বর্তমানে চাকরি রত।মেয়ে তৃষা এম,এ পরীক্ষার্থীনি(অবিবাহিতা), ছোট ছেলে আব্দুল বাতেন এম,এ শ্রেণির ছাত্র। সবাই ভালো আছে।আমার শ্রদ্ধেয় চাচাজী ১৭জুন ২০১৪ সালে চির বিদায় নেন।

একজন সৎ,ধার্মিক,মানবিক গুনের অধিকারী আল্লাহ তাঁকে হেফাজত করুন সেই সাথে তার সন্তানদের প্রতি আল্লাহর অশেষ করুণা বর্ষিত হোক এই আশাবাদ কামনা রেখে শেষ করছি।

 

ছবিতে লেখক এস এম নাজিম রেজা

লেখক ,চিন্তাবিদ ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব

 

 

[পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের]


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
এক ক্লিকে বিভাগের খবর