সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম :
শিরোনাম :
কুমারখালীতে অনুমোদন ছাড়া গ্যাসের সিলিন্ডার বিক্রির অপরাধে জরিমানা । শেরপুরে মাস্ক পরাতে মোবাইল কোর্টের অভিযানে দণ্ডিত ১৪ । বিলুপ্তির পথে গরু দিয়ে হাল চাষ ।।বাংলার রূপকথা।। রাজাকাররা যেমন মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারেনি তেমনি দুর্নীতিবাজরাও মাথা উঁচু করে দাড়াতে পারবে না–রোকন । খোকসা পৌর নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন “শান্ত” । শেরপুরে পরিবহন শ্রমিক-যাত্রীদের মাস্ক পরাতে অভিযানে “ইউএনও” । শহিদ ডাঃ মিলনের মৃত্যুর পর স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলন ত্বরান্বিত হয়-রোকন । কুমারখালী থানা পুলিশের অভিযানে ধর্ষণ মামলার আসামিসহ আটক-০৯;কারাগারে প্রেরণ । খোকসা পৌরসভা নির্বাচনে আ.লীগের একক প্রার্থী হিসেবে বর্তমান মেয়র তারিকুলের নাম কেন্দ্রে । নতুন দিগন্তের সূচনায় যুগান্তকারী “দৈনিক সময়ের কাগজ” পত্রিকার প্রতিনিধি সভা ।
ঘোষনা :
সত্য প্রকাশই আমাদের লক্ষ্য দৈনিক বাংলার রূপকথা ডটকমে আপনাকে স্বাগতম ।

খোকসার তৎকালীন সময়ের প্রিন্স পোকনের গল্প পড়ুন। banglarrupkotha

এস এম নাজিম রেজা / ৮৫১ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : সোমবার, ৩০ নভেম্বর ২০২০, ১০:৪৭ পূর্বাহ্ন

কুষ্টিয়া জেলার খোকসা উপজেলার থানা পাড়ার মরহুম আব্দুর রহমান বিশ্বাস সাহেবের পুত্র প্রয়াত রফিকুল ইসলাম পোকন ভাই ছিলেন তৎকালীন সময়ের খোকসার প্রিন্স। তিনি ১৫ জুলাই ১৯৪৭ সালে জন্ম গ্রহন করেন। সে সময় জানিপুর বিশেষ কারণে প্রসিদ্ধ ছিলো এখানে গড়ে উঠে নৌ বন্দর।সোনালী পাট ওআখের গুড় হতো প্রচুর পরিমানে যার ফলেএর সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীগন নদী পথে তাদের পণ্য বড় বড় নৌকায় খুলনা,সাভার, মিরকাদিম সহ বিভিন্ন স্হানে প্রেরন করতেন যেহেতু নদী সব সময় ছিলো  প্রবাহমান,থাকতো নাব্যতা ফলে খোকসা জানিপুর তথা এই এলাকায় বেশ কিছু  বিত্তশালী ব্যক্তির উন্মেষ ঘটে তাদের মধ্যে পোকন ভায়ের পিতা ছিলেন অন্যতম।

ছেলে বেলা থেকেই তার চলা ফেরা,পোষাক পরিচ্ছদ, সৌখিনতা সব কিছু মিলিয়ে তার মধ্যে আভিজাত্য পরিলক্ষিত হতো যেটা তিনি আজীবন ধরে রেখেছিলেন। ছিলেন তিনি সুঠাম দেহের অধিকারী সেই সাথে নায়কোচিত চেহারা তাইতো তিনি ছিলেন প্রিন্স। তার ঘরে বসতো গানের আসর সেখানে একটা ব্যাপার লক্ষ্য করতাম তিনি  ছিলেন মহা নায়ক উত্তম কুমারের একনিষ্ঠ ভক্ত,মহা নায়কের ছবির পাশে একই ভাবে তোলা ছবি শোভা পেতো কোনটা কার ছবি বুঝতে সময় যেতো।

খোকসা হাইস্কুলে পড়াকালীন সময়ে দেখেছি লেখাপড়া সহ সকল কর্মকান্ডে ছিল সমান সম্পৃক্ততা। খেলাধূলা, সাংস্কৃতিক, বিতর্ক প্রতিযোগিতায় সকল জায়গায় ছিলো তার দখল, ছিলো নেতৃত্ব।

ফুটবল, ভলিবল, ব্যাডমিন্টন সকল খেলাতেই ছিলেন পারদর্শী। ভলিবল খেলার কথা মনে পড়ে এখনো একপাশে পোকন ভাই তার বিপরীত পাশে তারই ছোট ভাই দুলাল ভাই।

দুই জনই ভালো খেলে থাকেন। খেলা চলছে মাঝখানে শুরু হলো কোল টানাটানিতে তর্ক যুদ্ধ। দুলাল ভাই ছিলেন একটু তোতলা তবে পোকন রেগে গেলে উনি ও তোতলা হয়ে যেতেন বিষয় হতো ভীষণ মজার। খুব কম দিনই খেলা শেষ হতো। তারা আজ কেউ নাই আমাদের মাঝে শুধু তাদের স্মৃতি বয়ে চলি।

১৯৬৫ সালে খোকসা হাইস্কুল থেকে এস,এস,সি, তিনি কুষ্টিয়া সরকারী কলেজ থেকে ১৯৬৭ সালে  এইচ,এস,সি এবং একই কলেজ থেকে বি,এ পাশ করেন ১৯৬৯ সালে। স্নাতক শ্রেণিতে থাকাকালীন সময়ে তিনি ছাত্রলীগের প্রার্থী হিসেবে কুষ্টিয়া সরকারী কলেজের ভি, পি নির্বাচিত হন এবং দক্ষতারকাজ পরিচালনা করেন। এরপর তিনি খুলনা আফিল জুট মিলে কিছুদিন সিকিউরিটি অফিসার হিসেবে চাকরি করেন।দেশে মুক্তি যুদ্ধ শুরু হলে তিনি নদী পথে ফিরে আসেন এবং মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা রাখেন।

তিনি খোকসার জুবিলী ব্যাংকের পরিচালক হিসেবে দীর্ঘদিন বিশ্বস্ততার সাথে দায়িত্ব পালন করেন।

তার সাংস্কৃতিক চেতনাবোধ ছিলো অসাধারণ। তিনি নিজে সুন্দর আবৃত্তি করতেন। বিশ্ব কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সোনার তরী,নির্ঝরের স্বপ্নভঙ্গ,জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের সাম্যবাদী কবিতা আবৃত্তি শৈলী মনে রাখার মতো।তার উপস্হাপনা ছিলো হৃদয় গ্রাহী।

তার বাসায় গানের আসরে তিনি ছিলেন আমাদের নির্দেশক,কোন জাতীয় অনুষ্ঠানে কি গান পরিবেশিত হবে সে ব্যাপারে পরামর্শ দিতেন। তার সহধর্মিণী হাসিনা রফিক (আমার সহপাঠী)  খুব ভালো রবীন্দ্র সংগীত গাইতেন, মেয়ে মিতা রফিক একজন ভালো মানের শিল্পী, ছেলে শুভ রফিক সে উচুমানের তবলা বাদক ঘরে সব সময় সাংস্কৃতিক পরিবেশ ভরপুর ছিলো। মাঝে মধ্যে তিনি  নিজেও গলা দিতেন। একজনের অভাবে তানপুরার সব তার ছিড়ে গেছে। তিনি তার স্ত্রীকে (হাসিকে)এতটাই  ভালোবাসতেন যে,কোনদিনই একা তাকে ছাড়া কোন দাওয়াত গ্রহণ করেন নাই।এখানে প্রশ্ন উঠতেই পারে তারে তাহলে কি আমরা বউকে কম ভালোবাসি…? তাহলে এবার বলুন দেখি আপনি কি একা একটি দিন তাকে ছাড়া দাওয়াত গ্রহণ করেন নাই। এটা  প্রায়ই অসম্ভব কিন্তু পোকন ভাই বলতেন, হাসিকে ছাড়া আমি কখনই আমি দাওয়াত গ্রহণ করিনা তোমাদের সমস্যা থাকলে আমাকেই  বাদ দাও।সত্যিই আমরা এতটা কারো জন্য কি ভাবি…? হাসিনা রফিক এখন ঢাকাতে তার ছেলের বাসায় থাকে প্রায়ই স্থায়ীভাবে। বেশকিছু  দিন আাগে দেখা,বললাম খোকসায় চলে আয় একসংগে গানের  মধ্যে থাকলে মনটা হালকা হবে উত্তরে বলল, ঢাকা থাকতে আমার একটুও ভালো লাগেনা তবুও থাকতে হয়।খোকসার বাড়িতে থাকতে পারি না তার স্মৃতি আমায় খুব কষ্ট দেয়।মনে হয় আমার  নাম ধরে বার বার ডাকে আমি সহ্য করতে পারি না তাই ঢাকায় পালিয়ে  থাকি, কোথায়ও থাকতে ভালো লাগে না। মিতা রফিক খোকসা সরকারি কলেজের বাংলার প্রভাষক আর শুভ রফিক একটি প্রতিষ্ঠানে কর্মরত।আল্লহ তাদেরকে  কর্ম পরিধি বিস্তৃতি সহ হেফাজত করুন। তিনি  ডায়াবেটিস সহ অন্যান্য দুরারোগ্য জটিল রোগে আক্রান্ত হয়ে ৩০ নভেম্বর ২০১৩ সালে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন।

একটা কথা ভুলে গেছি। ভাই ছিলেন আমার ব্যাডমিন্টন খেলার শিক্ষা গুরু।তার সম মানের খেলোয়াড় খুব এখন দেখি না। আমাদের স্যার প্রয়াত আব্দুল  মজিদ ও অমল নুন্দী(আলুদা) ছিলেন অসাধারণ  তুখোড়  খেলোয়াড়। খোকসার একজন চৌকস ক্রিড়ামোদী,শিক্ষানুরাগী,সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব,মুক্তিযোদ্ধা খোকসা থেকে ঝরে  গেছে।আমরা তার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো চিরদিন। আল্লাহ তাকে হেফাজত করুন এবং আপন স্বজনদের ধৈর্য্য ধারনের শক্তি দিন  এই প্রত্যাশায় শেষ করছি।

ছবিতে স্বপত্নিক লেখক এস এম নাজিম রেজা

লেখক ও সাংস্কৃতিক ব্যাক্তিত্ব

 

[পাঠকের মতামতের জন্য কৃর্তপক্ষ দায়ী নয়। লেখাটির দায় সম্পূর্ন লেখকের]


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       
এক ক্লিকে বিভাগের খবর