শনিবার, ২২ জানুয়ারী ২০২২, ০৯:০৫ অপরাহ্ন

কর্মময় পুরুষঃ প্রফেসর সেলিম তোহা ।

মোঃআসাদুজ্জামান / ৬৮৩ বার নিউজটি পড়া হয়েছে
আপডেট টাইম : বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট, ২০২০, ৩:৩১ অপরাহ্ন

“নীরবে নিঃশব্দে কাজ করে যেতে

    আমি অধিক স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করি”

 

এটি শুধু একটি বাক্য নয় , এটি একটি দর্শন যা সকলে ধারণ করতে পারে না , কিন্ত স্যার এটিই করে চলেছেন সর্বদা।

প্রফেসর ড. মোঃ সেলিম তোহা ১৯৬৪ সালের ১১ নভেম্বর কুষ্টিয়া জেলার দৌলতপুর উপজেলার খাস মথুরাপুর গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তাঁর পিতা মৃত মোহাম্মদ খোদা বখশ ছিলেন বিশিষ্ট সমাজ সেবক ও ক্রীড়াবিদ।

অধ্যাপক তোহা রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগ থেকে অনার্স-মাস্টার্স শেষ করে ১৯৯১ সালের ১৩ নভেম্বর ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে প্রভাষক পদে যোগদান করেন। তিনি ২০০৮ সালে প্রফেসর হিসেবে পদোন্নতি পান। বর্তমানে তিনি আইন  বিভাগের সিনিয়র প্রফেসর । তিনি একজন আইনবিদ, ক্রীড়াবিদ, সংস্কৃতিমনা এবং মানবাধিকারকর্মী।

চাকুরী জীবনে বিভিন্ন মেয়াদে তিনি অনুষদীয় ডীন, বিভাগীয় সভাপতি, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হলের প্রথম প্রভোস্ট, জিয়াউর রহমান হলের হাউজ টিউটর , প্রক্টর, সহকারী প্রক্টর, আইআইইআর ও টিএসসিসির পরিচালক,  ভার্সিটির আইন উপদেষ্টা, একাডেমিক কাউন্সিলের সদস্য, স্কলারশিপ কমিটি ফর রিসার্চ, ট্রেনিং এর সদস্য, আইকিউএসি – হেকেপ এর তত্বাবধানে আইন বিভাগে পরিচালিত প্রজেক্টে হেড অফ সেলফ এসেসমেন্ট ছিলেন। এছাড়াও তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফাইন্যান্স কমিটির সদস্য ছিলেন। আইন অনুষদ কর্তৃক প্রকাশিত “আই ইউ স্টাডিজ ”এর সম্পাদনা করেছেন,আইআইইআর কর্তৃক “ আইআইইআর  জার্নালেরও সম্পাদনা করেছেন।

তিনি ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাবেক সহ-সভাপতি, সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক ও প্রগতিশীল শিক্ষকদের সংগঠন শাপলা ফোরামের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন, ইবি শিক্ষক সমিতির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক , ৩ বার বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন।

তিনি  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের স্পোর্টস কমিটির সভাপতি , বিসিবির ও টেনিস ফেডারেশনের কাউন্সিলর হিসেবে কাজ করছেন এবং ল রিসার্চ অ্যান্ড ডিবেটিং ক্লাবের সভাপতি , টেনিস ক্লাব ইবির সভাপতি, এলকপ(ELCOP ) এর হিউম্যান রাইটস সামার স্কুলের আবাসিক প্রশিক্ষক  এবং ELCOP এর উপদেষ্টা ও নির্বাহী কমিটির সদস্য হিসেবে কাজ করছেন। তিনি ২০১০ সালে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে পড়িয়েছেন, এছাড়া ২০০৯-১০ সালে  ভিজিটিং প্রফেসর হিসেবে সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি তে পড়িয়েছেন এবং গ্রীন ইউনিভার্সিটিতে পড়িয়েছেন ২০১২-১৩ সালে।

তিনি ২০০৮ সালে  ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে “শিশু শ্রম” আইনের উপর পিএইচডি ডিগ্রী অর্জন করেন। এম ফিল এবং পিএইচডি শিক্ষার্থীদের জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ে তত্ত্বাবধান করে আসছেন। ২০ টি গবেষণা নিবন্ধগুলি এখনও পর্যন্ত বিভিন্ন পিয়ার রিভিউ জার্নালগুলিতে প্রকাশিত হয়েছে। অনেকগুলি জাতীয় এবং আন্তর্জাতিক ওয়ার্কশপ- সেমিনারে অংশ নিয়েছেন এবং মূল বক্তা হিসাবে অংশ নিয়েছেন।

১৯৯১ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন অনুষদ এবং ইউনেস্কোর ব্যাংককের আঞ্চলিক কমিশন যৌথভাবে আয়োজিত ঢাকায় মানবাধিকার কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। ক্লিনিকাল লিগ্যাল এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসির ওয়ার্কশপে অংশ নেন। ক্লিনিকাল লিগ্যাল এডুকেশন অ্যান্ড অ্যাডভোকেসিতে অংশ নেওয়া “ওয়ার্কশপটি বাংলাদেশ বার কাউন্সিল এবং নিউ সাউথ ওয়েলস বার অ্যাসোসিয়েশন (অস্ট্রেলিয়া) যৌথভাবে স্পনসর করে ২ – ৬ জানুয়ারি, ১৯৯৬ ঢাকায়। ৩০ সেপ্টেম্বর – ২২ অক্টোবর, ২০০৫ পর্যন্ত শরণার্থী আইনের উপর প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছিলেন, সাধারণ মানুষের আইনের মাধ্যমে ক্ষমতায়ন ( ELCOP ) আয়োজিত এবং বাংলাদেশ জাতিসংঘের শরণার্থী হাই কমিশনার (ইউএনএইচসিআর) এর পৃষ্ঠপোষকতায়।

রোহিঙ্গা শরণার্থী সম্প্রদায়ের জন্য নেতৃত্ব ও সংঘর্ষ পরিচালনার উপর একটি প্রশিক্ষণ কোর্স ২৫ নভেম্বর – ২রা ডিসেম্বর,২০১১ অবধি পরিচালনা করেছেন। ২৯ মার্চ – ৩রা এপ্রিল, ২০১৪ পর্যন্ত রোহিঙ্গা শরণার্থী সম্প্রদায়ের নেতৃত্ব ও সংঘাত পরিচালনার বিষয়ে দলের নেতৃত্ব হিসাবে একটি প্রশিক্ষণ কোর্স পরিচালনা করেছেন। BELA (বাংলাদেশ পরিবেশ আইনজীবি সমিতি) দ্বারা আয়োজিত পরিবেশ আইন সম্পর্কিত একটি প্রশিক্ষণ কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ১৬-১৮ আগস্ট,২০১৫ থেকে হেকেপ (HEQEP) সাব-প্রকল্পের আওতায় আয়োজিত আইনের কারিকুলাম বিকাশ সম্পর্কিত কর্মশালায় একজন রিসোর্স ব্যক্তি হিসাবে যোগদান করেছেন।

ক্লিনিকাল আইন শিক্ষার উন্নয়নের জন্য ৬-৯ অক্টোবর,২০১৫ পর্যন্ত   ব্লুহাম লিগ্যাল ক্লিনিক,প্রিতজকার স্কুল অফ ল, নর্থ-ওয়েস্টার্ন ইউনিভার্সিটি, শিকাগো, ইলিনয় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন ক্লিনিকের পরিচালকদের সাথে বৈঠক এবং বিভিন্ন আইন ক্লাস পর্যবেক্ষণ করেছেন, আইন বিভাগ, ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়, আইকিউএসি(IQAC) – এইচইকিউইপি(HEQEP) প্রকল্পের আওতায়।

কানাডার আইনী ব্যবস্থা এবং আদালত প্রক্রিয়ায় অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য কয়েকটি আইন ফার্মে ২৩ -২৬ অক্টোবর, ২০১৭ পর্যন্ত টরন্টোতে অবস্থান করেছিলেন। জাপানের কিতাক্যুশুতে ২৪ জুন – ০২ জুলাই পর্যন্ত আইসিআইইভি -২০১৮ কর্তৃক শীর্ষক সেমিনারে অংশ নিয়েছেন |

ড. সেলিম তোহা প্রফেসর ক্যাটাগরিতে মহামান্য চ্যান্সেলর মনোনীত সিন্ডিকেট সদস্য (২০১০-২০১৩) ছিলেন। প্রফেসর তোহা ২০১৯ সালে ১২ তম “বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের ” ভাইভা বোর্ডের সদস্য ছিলেন। তিনি  আইন ও ভুমি ব্যাবস্থাপনা বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি এবং ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয়ের ট্রেজারার হিসেবে  আজ দায়িত্ব শেষ করলেন।

তাঁর স্ত্রী সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, বড় ছেলে বাংলাদেশ বিমান বাহিনীর কমিশনড অফিসার এবং ছোট ছেলে কুষ্টিয়া জিলা স্কুলের ছাত্র।

আজ স্যারের ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালনের শেষ দিন। আমরা স্যারকে নিয়ে গর্বিত। স্যারের প্রতি আমাদের সকলের পক্ষ থেকে অভিনন্দন। স্যার আবারো বড় কোন পদে আসীন হবেন , আমাদের এটাই প্রত্যাশা।

লিখেছেনঃ মোঃ আসাদুজ্জামান

লেকচারার,আইন ডিসিপ্লিন

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়,খুলনা ।

 

বঙ্গবন্ধু ও বাকশাল-মোঃ আসাদুজ্জামান । লেখাটি পড়তে এখানে ক্লিক করুন””click here””

 

 



আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এ জাতীয় আরো খবর ....

Archives

MonTueWedThuFriSatSun
     12
3456789
24252627282930
31      
  12345
20212223242526
2728293031  
       
2930     
       
    123
45678910
       
  12345
27282930   
       
 123456
78910111213
14151617181920
21222324252627
282930    
       
     12
17181920212223
31      
   1234
19202122232425
2627282930  
       
22232425262728
293031    
       
       
       
      1
30      
   1234
       
282930    
       
  12345
6789101112
13141516171819
2728293031  
       

এক ক্লিকে বিভাগের খবর
Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect. Copy Protected by Chetan's WP-Copyprotect.